ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষেরই জয়ের দাবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৩৪, ৮ এপ্রিল ২০২৬
যুদ্ধবিরতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষেরই জয়ের দাবি
ছবি: সংগৃহীত

দুই সপ্তাহের জন্য হামলা স্থগিত হওয়ার পর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশই এই সাময়িক যুদ্ধবিরতিকে তাদের নিজস্ব 'কূটনৈতিক জয়' হিসেবে প্রচার করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জন করেছে।  
যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর মঙ্গলবার সংবাদ সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “এটা পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়। শতভাগ। এ নিয়ে কোনো প্রশ্নের অবকাশ নেই।”

হোয়াইট হাউসও দুই সপ্তাহের এই যুদ্ধবিরতিকে ‘যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।  
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে লিখেছেন, “এটি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিজয়। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের অসাধারণ সামরিক বাহিনী এটি সম্ভব করেছে। তিনি হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিয়েছেন।”

Advertisement

লেভিট আরও বলেন, “আমরা মাত্র ৩৮ দিনের মধ্যে আমাদের মূল সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করেছি এবং তা অতিক্রমও করে গেছি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সুরক্ষা এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় তাঁর সক্ষমতাকে কখনো হালকাভাবে নেবেন না।”

অন্যদিকে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের ‘ঐতিহাসিক বিজয়’ বলে দাবি করেছে।  
হামলা স্থগিতের ঘোষণার একদিন পর বুধবার এক বিবৃতিতে তারা এ দাবি করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরুর আগেই ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের ১০ দফা প্রস্তাব গ্রহণ করতে বাধ্য করেছে। ওই প্রস্তাবে রয়েছে— ভবিষ্যতে কোনো আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত রাখা, নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা, অঞ্চল থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার এবং ক্ষতিপূরণ প্রদান।

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আগামী শুক্রবার ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি নিয়ে শান্তি আলোচনা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানিয়েছে, ওই আলোচনায় চুক্তি চূড়ান্ত করার দিকে বেশি জোর দেওয়া হবে। তবে তারা স্পষ্ট করে বলেছে, “এর অর্থ এই নয় যে যুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, তেহরান পাকিস্তানের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের পরিকল্পনা জমা দিয়েছে এবং ওয়াশিংটন ইরানের প্রস্তাবিত নীতিগুলোকে আলোচনার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করেছে। আলোচনা সর্বোচ্চ ১৫ দিন চলবে, তবে প্রয়োজনে সময় বাড়ানো যেতে পারে। যেকোনো চূড়ান্ত চুক্তি আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি পেতে হবে।

ইরান সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, তাদের দাবি পূরণ না হলে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই যুদ্ধবিরতিকে ‘দ্বিপক্ষীয় যুদ্ধবিরতি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার সঙ্গে যুক্ত এবং ইরানের ১০ দফা প্রস্তাবকে আলোচনার জন্য ‘গ্রহণযোগ্য ভিত্তি’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

সূত্র: সিএনএন

ডেইলি-বাংলাদেশ/টিএএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!