ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ভারত মহাসাগরে: মার্কিন জাহাজে আঘাত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৪:৩৪, ২ এপ্রিল ২০২৬
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ভারত মহাসাগরে: মার্কিন জাহাজে আঘাত
ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনা এখন ভারত মহাসাগরের উন্মুক্ত জলসীমায় ছড়িয়ে পড়ল। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, তারা ভারত মহাসাগরে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি আর্লেই বার্ক-ক্লাস ডেস্ট্রয়ার এবং সঙ্গে থাকা জ্বালানি সরবরাহকারী ট্যাঙ্কার জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এই অভিযানকে তারা ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৪’-এর অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ইরান এই হামলাকে প্রতিশোধমূলক বলে উল্লেখ করেছে। কয়েকদিন আগে ভারতের আমন্ত্রণে শ্রীলঙ্কার কাছে যৌথ নৌ মহড়া শেষে ফেরার পথে মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সাবমেরিন ইরানের যুদ্ধজাহাজ আইরিস ডেনাকে টর্পেডো দিয়ে ডুবিয়ে দেয়। ওই ঘটনায় ইরানের প্রায় ৮৭ জন নাবিক নিহত হয় বলে জানা গেছে। আইআরজিসি এই হামলাকে তারই জবাব হিসেবে দেখছে।

হামলার কৌশলগত বিশ্লেষণ
ইরানি বাহিনী দাবি করেছে, হামলাটি দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে পরিকল্পিত হয়েছে। তারা মার্কিন ডেস্ট্রয়ারটিকে এমন একটি মুহূর্তে আক্রমণ করে যখন জাহাজটি মাঝ সমুদ্রে জ্বালানি সংগ্রহ করছিল। এই সময়ে দুটি জাহাজ হোস পাইপ দিয়ে সংযুক্ত থাকে, ফলে তাদের চালচলন প্রায় শূন্য হয়ে পড়ে। ইরান এটিকে “সর্বোচ্চ দুর্বলতার মুহূর্ত” বলে অভিহিত করেছে।

Advertisement

হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে দুই ধরনের ক্ষেপণাস্ত্রের সমন্বয়:
- গদর-৩৮০: মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইল, যা উচ্চ গতিতে আকাশপথে আঘাত হানে।
- তালাইয়েহ: নিম্ন উচ্চতায় উড়ে আসা ক্রুজ মিসাইল, যা রাডার ফাঁকি দিয়ে সমুদ্রপৃষ্ঠের কাছাকাছি থেকে জাহাজের ওয়াটারলাইনে আঘাত করতে সক্ষম।

আইআরজিসি বলছে, এই দ্বিমুখী আক্রমণের কারণে জাহাজের আইজিস প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুই দিক সামলাতে ব্যর্থ হয়েছে।


ইরানের দাবি অনুসারে:
- ডেস্ট্রয়ার এবং সাপ্লাই ট্যাঙ্কার উভয় জাহাজেই ব্যাপক আগুন ধরেছে।
- সাপ্লাই জাহাজে প্রচুর জ্বালানি থাকায় অগ্নিকাণ্ড আরো তীব্র হয়েছে।

মার্কিন পক্ষ এখনও এই হামলার বিষয়ে সরাসরি কোনো নিশ্চিতকরণ বা বিস্তারিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশ করেনি। পেন্টাগন সাধারণত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির ক্ষেত্রে “কৌশলগত নীরবতা” অবলম্বন করে।

অর্থনৈতিক প্রভাব
এই হামলার ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে উল্লেখযোগ্য অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে উঠেছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি (তেল ও এলএনজি) সরবরাহ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের এই পাল্টা আঘাত প্রমাণ করছে যে, দেশটি তার সামরিক সক্ষমতা হারানোর পরিবর্তে আরও আক্রমণাত্মক ও প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে।

সূত্রঃ প্রেস টিভি

ডেইলি-বাংলাদেশ/টিএএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!