ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ইরানের হামলায় মার্কিন রাডার ধ্বংস, উপসাগরে প্রতিরক্ষা চাপ বাড়ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০:৪৩, ৭ মার্চ ২০২৬
ইরানের হামলায় মার্কিন রাডার ধ্বংস, উপসাগরে প্রতিরক্ষা চাপ বাড়ছে
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক রাডার ধ্বংস হয়েছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই রাডারের মূল্য প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

মার্কিন এক কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমান ঘাঁটিতে স্থাপন করা রাডারটি যুদ্ধের শুরুর দিকেই হামলায় ধ্বংস হয়ে যায়।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, আরটিএক্স কর্পোরেশনের তৈরি এএন/টিপিওয়াই-২ রাডার এবং এর সহায়ক সরঞ্জাম সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়েছে। এই রাডারটি যুক্তরাষ্ট্রের থাড (THAAD) ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। পরে এক মার্কিন কর্মকর্তা রাডারটি ধ্বংস হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

Advertisement

থিঙ্ক ট্যাংক ফাউন্ডেশন ফর ডিফেন্স অব ডেমোক্রেসিস জানিয়েছে, জর্ডানে ইরানের দুটি হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি হামলা হয় ২৮ ফেব্রুয়ারি এবং আরেকটি ৩ মার্চ। তবে এই দুই হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

সংস্থাটির সেন্টার অন মিলিটারি অ্যান্ড পলিটিক্যাল পাওয়ারের উপপরিচালক রায়ান ব্রোবস্ট বলেন, হামলাটি সফল হয়ে থাকলে এটি ইরানের সবচেয়ে কার্যকর হামলাগুলোর একটি হতে পারে।

থাড বা টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স ব্যবস্থা আকাশের উচ্চ স্তরে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করার জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি প্যাট্রিয়টের মতো স্বল্প পাল্লার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার তুলনায় আরো জটিল হুমকি মোকাবিলায় সক্ষম।

তবে এএন/টিপিওয়াই-২ রাডারটি অকার্যকর হয়ে পড়ায় ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে এখন প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়বে। এরই মধ্যে পিএসি-৩ ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে বলেও জানা গেছে।

বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট আটটি থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামেও এই ব্যবস্থা মোতায়েন আছে। প্রতিটি থাড ব্যাটারির মূল্য প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে রাডারের দামই প্রায় ৩০০ মিলিয়ন ডলার।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞ টম কারাকো বলেন, এসব ব্যবস্থা অত্যন্ত বিরল ও কৌশলগত সম্পদ, তাই এর ক্ষতি যুক্তরাষ্ট্রের জন্য বড় ধাক্কা।

একটি থাড ব্যাটারিতে প্রায় ৯০ জন সেনা থাকে। এতে ছয়টি ট্রাকভিত্তিক লঞ্চার থাকে এবং প্রতিটি লঞ্চারে আটটি করে মোট ৪৮টি ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র বহন করা যায়। এছাড়া একটি টিপিওয়াই-২ রাডার ও একটি ফায়ার কন্ট্রোল ও যোগাযোগ ইউনিট থাকে।

এই ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করে লকহিড মার্টিন, যার প্রতিটির দাম প্রায় ১৩ মিলিয়ন ডলার।

এর আগে যুদ্ধের শুরুতে কাতারে থাকা আরেকটি মার্কিন রাডার- এএন/এফপিএস-১৩২- ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গবেষণা সংস্থা জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রোলিফারেশন স্টাডিজ জানায়, ইরানের হামলায় এই স্থায়ী রাডারটিও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, উপসাগরীয় অঞ্চলে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইরানের পাল্টা হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চাপের মুখে পড়ছে। এতে উন্নত ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার হোয়াইট হাউসে মার্কিন প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। এতে লকহিড মার্টিন ও আরটিএক্সের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। দ্রুত অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর জন্য পেন্টাগন ইতিমধ্যে কোম্পানিগুলোর ওপর চাপ বাড়াচ্ছে।

সূত্র: ব্লুমবার্গ

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
ট্যাগ: ইরান হামলা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!