ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

গাজায় ত্রাণ শিবিরসহ বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ২০

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৩:০১, ১৮ নভেম্বর ২০২৪
গাজায় ত্রাণ শিবিরসহ বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলি হামলা, নিহত ২০
ফাইল ফটো

ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থানে ইসরায়েলের সামরিক হামলায় অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এরমধ্যে ৬ জন নিহত হয়েছেন বাস্তুচ্যুত পরিবারদের জন্য স্থাপিত ত্রাণ শিবিরে হামলার ঘটনায়।

সোমবার (১৮ নভেম্বর) এ হামলা চালানো হয় বলে স্থানীয় চিকিৎসাকর্মীদের বরাতে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স

প্রতিবেদনে জানানো হয়, উপকূলীয় আল-মাওয়াসি এলাকায় ত্রাণ শিবিরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দু’জন শিশুসহ চারজন নিহত হন। এটি একটি মানবিক অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত। দক্ষিণ রাফাহ শহরে অস্থায়ী আশ্রয়ে আরো দুজন নিহত হন। গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ড্রোন হামলায় আরো একজন নিহত হন।

Advertisement

উত্তর গাজার বেইত লাহিয়ায় একটি বাড়িতে ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানলে অন্তত দুজন নিহত ও কয়েকজন আহত হন। রোববার একই শহরের একটি বহুতল ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলে চিকিৎসক ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

গাজা শহরের একটি বাড়িতে আরেকটি বিমান হামলায় সাতজন নিহত ও ১০ জন আহত হন। পরে নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে আরেকটি হামলায় চারজন নিহত হন।

গাজার নাসের হাসপাতালের পরিচালক হুসাম আবু সাফিয়া জানান, হাসপাতালটি ইসরায়েলি অবরোধে আছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) খাদ্য, ওষুধ ও অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম সরবরাহের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির হার বৃদ্ধি পাচ্ছে। সংকট তীব্র হলেও হাসপাতালে সেবা প্রদানের সামর্থ্য সীমিত। দৈনিক আমরা সাহায্যের জন্য আর্তনাদ শুনি, কিন্তু অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে সাড়া দিতে পারি না। এভাবে বহু নারী ও শিশু ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে মারা যাচ্ছে।

নাসের হাসপাতালের এক শরণার্থী মোহাম্মদ আবুল হাসান বলেন, আমার ভাই একাই নয়, অনেকেই এই নৃশংস হামলায় মারা গেছে। শিশুরা ছিন্নভিন্ন হয়েছে, বেসামরিকরা নির্মমভাবে নিহত হয়েছে। তারা কোনও অস্ত্র বহন করছিল না বা প্রতিরোধ সম্পর্কে জানতও না। তবুও তারা ছিন্নবিচ্ছিন্ন হয়ে গেলো।

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, বেইত লাহিয়ায় তারা সন্ত্রাসী লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। তবে গাজার হামলাগুলো নিয়ে কোনও মন্তব্য তারা করেনি। 

গত ২৪ ঘণ্টায় গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৭৬ জন নিহত হয়েছে বলে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৩ হাজার ৮০০ জনের বেশি নিহত হয়েছে। গাজার প্রায় ২৩ লাখ জনগণের মধ্যে প্রায় সবাই বাস্তুচ্যুত।

অন্যদিকে, গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়। ইসরায়েলি বাহিনী দাবি করেছে, উত্তরের তিনটি এলাকায় তারা শতাধিক হামাস যোদ্ধাকে হত্যা করেছে।

এই যুদ্ধের মধ্যেই মানবিক সংকট গভীরতর হচ্ছে। ইসরায়েলের সামরিক সংস্থা সিওজিএটি জানিয়েছে, তারা রবিবার উত্তর গাজায় ১০ হাজার লিটার জ্বালানি এবং ১৪৯টি মেডিক্যাল প্যাকেজ সরবরাহ করেছে। তবে পরিস্থিতি এখনও সংকটাপন্ন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!