ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত শিশুকে সুইমিংপুলে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টা মার্কিন নারীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫:৩৬, ২৫ জুন ২০২৪
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত শিশুকে সুইমিংপুলে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টা মার্কিন নারীর
ছবি: সংগৃহীত

তিন বছর বয়সী এক ফিলিস্তিনি-আমেরিকান মুসলিম মেয়ে শিশুকে অ্যাপার্টমেন্টের সুইমিংপুলে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রে এক নারীর বিরুদ্ধে। শিশুটির পরিবার ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত জানার পর তাকে পানিতে চুবিয়ে মারার চেষ্টা চালান ওই নারী।

৪২ বছর বয়সী অভিযুক্ত নারীর নাম এলিজাবেথ উলফ। তিনি টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দা।

 টেক্সাসের পুলিশ তাকে শিশু হত্যার চেষ্টা এবং আঘাতের দায়ে অভিযুক্ত করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সময় উলফ ঘোর নেশাগ্রস্ত ছিলেন।

Advertisement

ঘটনাটি ঘটেছে গত মাসের ১৯ মে। ওইদিন ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত শিশুটির মা একটি হিজাব পরিধান করে বাচ্চাদের নিয়ে পুলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় তাকে ধর্ম ও জাতীয়তা নিয়ে প্রশ্ন শুরু করেন মার্কিন শ্বেতাঙ্গ নারী উলফ। পরিচয় পেয়েই পুলে থাকা মুসলিম নারীর দুই সন্তানের ওপর চড়াও হন তিনি। 

জানা গেছে, প্রথমে ফিলিস্তিনি নারীর ৬ বছর বয়সী ছেলের ওপর চরাও হন উলফ। কিন্তু ছেলেটি উলফের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে সরে গেলেও তার হাতে আঁচড় লাগে। ছেলে সরে গেলে তিন বছরের মেয়েটির ওপর চড়াও হন উলফ। মেয়েটিকে তিনি পানির নিচে চেপে ধরেছিলেন।

পরবর্তীতে মেয়েকে উলফের হাত থেকে রক্ষা করেন মা। এ সময় তিন বছরের শিশুটি খুব কাশছিল। পরবর্তীতে দুই শিশুকেই প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করা হয়।

ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে সিএআইআরকে ফিলিস্তিনি ওই মা বলেছিলেন, আমরা আমেরিকার নাগরিক হলেও মূলত ফিলিস্তিনের। আমি জানি না, বাচ্চাদের নিয়ে নিরাপদে থাকার জন্য কোথায় যেতে হবে। আমার দেশ একটি যুদ্ধের সম্মুখীন এবং আমরা এখানে সেই ঘৃণার মুখোমুখি হচ্ছি।  আমার মেয়ে মানসিকভাবে অনেক আঘাত পেয়েছে। আমি যখনই অ্যাপার্টমেন্টের দরজা খুলি সে দৌড়ে পালিয়ে যায় এবং লুকিয়ে থাকে। আমাকে বলে সে ভয় পাচ্ছে যে ভদ্রমহিলা আবার আসবে এবং তার মাথা আবার পানিতে ডুবিয়ে দেবে।

জানা গেছে, ঘটনার দিন উলফকে আটক করা হলেও জামিনে পরদিনই তিনি স্থানীয় ট্যারান্ট কাউন্টি কারাগার থেকে ছাড়া পেয়ে যান।

মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ইসলামভীতি, ফিলিস্তিনবিরোধী পক্ষপাত এবং ইহুদিবিদ্বেষ বেড়েছে। এদিকে এ ঘটনার খবরে 'গভীরভাবে মর্মাহত’ হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!