ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে নির্মূল করার জন্য ঘনবসতিপূর্ণ গাজা শহরকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলছে, তারা গাজার ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলোতে আত্মগোপনে থাকা যোদ্ধাদের আক্রমণ করার জন্য প্রস্তুত।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, মঙ্গলবার গাজার দক্ষিণাঞ্চলের শহর খান ইউনিস ও রাফায় ইসরায়েলের দুটি পৃথক বিমান হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ২৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। খান ইউনিসেই নিহত হয়েছে ১১ জন।
.png)
খান ইউনিসে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হওয়া এক ব্যক্তি বলেছেন, ইসরায়েলকে কঠিন শিক্ষা দেওয়া হবে। আহমেদ আয়েশ নামের ওই ব্যক্তি সাংবাদিকদের বলেন, এটাই তথাকথিত ইসরায়েলের সাহস। তারা নিরস্ত্র নাগরিক, শিশু ও বয়স্কদের বিরুদ্ধে তাদের অস্ত্র ও শক্তি প্রয়োগ করে।
এক মাস আগে নিজেদের ভূখণ্ডে ঢুকে হামাস যোদ্ধারা হামলা চালানোর পর থেকেই গাজা উপত্যকায় বোমা হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল। হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ৪০০ জন নিহত হয়েছে। হামাস যোদ্ধারা জিম্মি করেছে ২৪০ জনকে।
এই যুদ্ধ থামানোর সব প্রয়াস নাকচ করে আসছে দুই পক্ষই। ইসরায়েলের দাবি, আগে তাদের বন্দীদের মুক্তি দিতে হবে। হামাস বলছে, গাজায় যুদ্ধ না থামানো পর্যন্ত বন্দীদের মুক্তি দেওয়া হবে না।
নেতানিয়াহু বলছেন, যুদ্ধবিরতি দিলে ইসরায়েলের প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তবে পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে মানবিক কারণে যুদ্ধ স্থগিত করা যেতে পারে। যুদ্ধ স্থগিত করার ধারণাটি সমর্থন করছে ইসরায়েলের প্রধান মিত্র যুক্তরাষ্ট্রও।
প্রসঙ্গত, ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত ১০ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ১০০টিই শিশু। এছাড়া ২৫ হাজার ৯৫৬ জন আহত হয়েছেন বলেও জানিয়েছে হামাস নিয়ন্ত্রিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
অপরদিকে, ফিলিস্তিনির দখলকৃত পশ্চিমতীরে এই একই সময়ের মধ্যে ১৬১ জন নিহত হয়েছেন। যা গত কয়েক বছরে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। আর এ বছর সবমিলিয়ে এখন পর্যন্ত পশ্চিমতীরে নিহত হয়েছেন ৩৭১ জন।