গত জুন মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকে বহুল আলোচিত পাল্টা সামরিক অভিযান শুরু হলেও এখনও কোথাও রাশিয়ার প্রতিরক্ষা ব্যুহ ভেদ করতে পারেনি ইউক্রেন।
জেনারেল ওলেক্সান্দার বলেন, রাশিয়া ফ্রন্টলাইনে ধাপে ধাপে যে মাইনফিল্ড তৈরি করেছে, তা ভেদ করে সামনে আগানো অসম্ভব। এসব ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ মিশনগুলো ইউক্রেনের সেনারা সম্পন্ন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু ওলেক্সান্দারের ভাষায়, রাশিয়ার সেনারা যে ‘পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা’ দেখিয়েছে তার কারণে ইউক্রেনের সেনারা অগ্রসর হতে পারছে না। আমি তাই আর শত্রুদের ছোট করে দেখছি না।
.png)
সাম্প্রতিক মার্কিন রিপোর্ট বলছে, ইউক্রেন এখন তার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে পাল্টা অফেন্সিভে গিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি যে, পশ্চিমাদের দেয়া ট্যাংক ও সশস্ত্র যান যুদ্ধকে ইউক্রেনের পক্ষে টেনে আনতে পেরেছে। পাল্টা সামরিক অভিযানের শুরুতেই একাধিক লিওপার্ড ট্যাংক ধ্বংস করেছে রাশিয়া। কিছু ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্থও হয়েছে। ইউক্রেন এখন সেগুলোকে মেরামত করে আবারও যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর চেষ্টা করছে।
ইউক্রেনের ৪৭তম ব্রিগেডকে প্রশিক্ষণ এবং অস্ত্র দিয়েছে পশ্চিমা দেশগুলো। গত এক মাস ধরে তারা রাশিয়ার প্রতিরক্ষা লাইন ভেঙে সামনে আগানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু শত্রুদের মাইন ও গোলার আঘাতে তাদের অভিযান ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। এদিকে ইউক্রেনের এই বারবার ব্যর্থ হওয়াকে নিজেদের প্রোপ্যাগান্ডায় ব্যবহার করছে মস্কো। তারা ইউক্রেনের ধ্বংস হয়ে যাওয়া বিপুল অস্ত্র ও ট্যাংকের ভিডিও ইন্টারনেটে প্রকাশ করে চলেছে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র প্রতিবেদক ওই ব্রিগেডের ওয়ার্কশপেও গিয়েছিল। ফ্রন্টলাইনের কাছেই একটি বনের মধ্যে এটি লুকানো রয়েছে। সেখানে তারা ১২টিরও বেশি ট্যাংক ও সশস্ত্র যান মেরামতের চেষ্টা করছে। এগুলো মূলত যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইউক্রেনে এসেছে। রাশিয়ার মাইন ও গোলার আঘাতে প্রতিদিনই প্রচুর সমরযান হারাচ্ছে ইউক্রেন। এরমধ্যে বেশিরভাগই পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। কিছু আবার মেরামতের যোগ্য রয়েছে।
ইঞ্জিনিয়ারদের একজন সেরহি বলেন, আমরা যত দ্রুত সম্ভব এগুলোকে ঠিক করার চেষ্টা করছি। কারণ যত দ্রুত আমরা এগুলোকে ফ্রন্টলাইনে পাঠাবো, ততবেশি সেনার প্রাণ বাঁচানো সম্ভব হবে।
কোনোভাবেই রাশিয়ার তৈরি মাইনফিল্ড দিয়ে আগাতে পারছে না ইউক্রেন। নিজেদের পশ্চিমা যান শেষ করে এখন সোভিয়েত আমলের ট্যাংক দিয়ে মাইনফিল্ড পরিস্কারের চেষ্টা করছে তারা। কিন্তু তারাও মাটির নিচে লুকানো বিস্ফোরক এড়াতে পারছে না। রাশিয়ানরা এক মাইনের ওপরে আরও মাইন রেখে প্রতিরক্ষা ব্যুহ তৈরি করেছে। ফলে এই মাইনফিল্ড পরিস্কার করা অসম্ভব হয়ে গেছে ইউক্রেনের জন্য।
ইউক্রেনের সামরিক কম্যান্ডাররা বলছেন, গত বছর খেরসন অঞ্চলে পাল্টা সামরিক অভিযান চালিয়ে ইউক্রেন যে সফলতা পেয়েছিল, এবার পরিস্থিতি পুরো আলাদা। যুদ্ধে প্রথমবারের মতো রুশ গোলার থেকে মাইনের আঘাতে বেশি সেনা হতাহত হচ্ছে। যেখানেই অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, সেখানেই মাইনফিল্ড সামনে পড়ছে তাদের। রাশিয়ার সেনারা এখন রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে মাইন নিয়ন্ত্রণ করছে। যখনই ইউক্রেনের সেনারা মাইনফিল্ড কিংবা কোনো পরিখায় ঢুকছে, সাথে সাথে তারা সবাইকে উড়িয়ে দিচ্ছে। এই নতুন কৌশলটি রাশিয়া গত দুই সপ্তাহ ধরে ব্যবহার করছে বলে জানান ইউক্রেনের কমান্ডাররা।