ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

পাকিস্তানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত ১৪ 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:১০, ১৬ মে ২০২৩
পাকিস্তানে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ, পুলিশসহ নিহত ১৪ 
সংগৃহীত

পাকিস্তানে প্রায়ই দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার মতো ঘটনা। দেশটিতে এমন হামলায় এই পর্যন্ত অনেক জনের প্রাণহানি ঘটেছে। কিন্তু এবার দুই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষে প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, পাকিস্তানের খাইবার পাখতুন প্রদেশের কোহাট জেলায় দুই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে একজন পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরো ১২ জন। 

সোমবার কোহাট জেলার দারা আদম খেল এলাকায় দুই ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের এই ঘটনা ঘটে। এই বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ১১ জন সানিখেল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এবং তিনজন আখোরওয়াল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর। এ ছাড়া আহত ১২ জনের সবাই সানি খেল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষ। 

সোমবার বিকাল ৫টার দিকে দারা আদম খেল পাহাড়ি এলাকায় কয়লা খনির দখলকে ঘিরে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সেনাবাহিনী নিযুক্ত করা হয়। 

আরো পড়ুন>> কলকাতায় ৮৪ কিমি. বেগে কালবৈশাখীর তাণ্ডব

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পাহাড়ি এলাকার প্রায় চার মাইলজুড়ে কয়লা খনি রয়েছে। এলাকাটি আখোরওয়াল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর দখলে রয়েছে। 

এ সংঘর্ষের ব্যাপারে এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। দারা আদম খেল প্রশাসনের কর্মকর্তা আজম খান বলেন, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা সাধারণত প্রচলিত আইন মানে না। তারা নিজেদের মধ্যে সমাধান করতে পছন্দ করে। এ কারণে কোনো মামলা নথিভুক্ত করা হয়নি। 

উল্লেখ্য, ২০১৯ সাল থেকে এ এলাকার কয়লা খনির দখল নিয়ে সানি খেল ও আখোরওয়াল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষেরা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সেই বিরোধীতার ধারাবাহিকতা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতেও এ এলাকায় সংঘর্ষ হয়েছিল। তখন বিরোধ নিষ্পত্তি করতে সেখানে একটি ‘বাফার জোন’ তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু গত ১২ মে আখোরওয়াল ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীরা বাফার জোন লঙ্ঘন করলে আবারো সংঘর্ষ শুরু হয়। 

সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষের কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতা শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু প্রশাসনের দুর্বলতার জন্য রক্তক্ষয়ী বিরোধের সমাধান হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন তারা। 

সোমবার সংঘর্ষের পর সেনাবাহিনী উভয় পক্ষের জ্যেষ্ঠ নেতাদের ডেকেছে। তারা কোহাট পুলিশ ও আদম খেলের সহকারী কমিশনারের মধ্যস্থতায় রুদ্ধদ্বার বৈঠক করছেন বলে মুসলিম আফ্রিদি নামের একজন তহসিলদার গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

সূত্র: ডন

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরটি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!