ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

বন্ধ হয়ে গেলো যুক্তরাষ্ট্রের আরো দুটি ব্যাংক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩:২৭, ১৩ মার্চ ২০২৩
বন্ধ হয়ে গেলো যুক্তরাষ্ট্রের আরো দুটি ব্যাংক
সংগৃহীত ছবি

যুক্তরাষ্ট্রে আরো দুটি ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেছে। এর একটি হচ্ছে সিগন্যাচার ব্যাংক এবং অপরটি সিলভারগ্যাট। ফেডারেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে রোববার সিগন্যাচার ব্যাংক বন্ধের কথা স্বীকার করে জানানো হয়, এই ব্যাংকের সব গ্রাহকের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হবে। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যাতে বিরূপ প্রভাব না পড়ে সে জন্যে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। 

জনপ্রিয় ছিল নিউইয়র্কের সিগনেচার ব্যাংক। বহু মানুষ এই ব্যাংকে অর্থ সঞ্চিত রেখেছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি ব্যাংকটির অগ্রগতি থমকে যায়। মার্কিন প্রশাসন অবশ্য গ্রাহকদের আশ্বস্ত করেছে। সোমবার থেকেই তারা তাদের অর্থ সংগ্রহ করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে সচল রাখতে দেশের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকেও সাহায্যে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।

এ হ্যারিস জানান, সিগনেচার ব্যাংক এফডিআইসি দ্বারা বীমাকৃত, যার মোট সম্পদ প্রায় ১১০.৩৬ বিলিয়ন ডলার এবং মোট আমানত প্রায় ৮৮.৫৯ বিলিয়ন ডলার। এদিকে গ্রাহকদের চাহিদা মেটাতে বাড়তি অর্থের জোগান দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছে মার্কিন ফেডেরাল রিজার্ভ। আমেরিকান ট্রেজারি ও ফেডারেল ডিপোজিট ইনস্যুরেন্স করপোরেশন যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিকে রক্ষা করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ আমরা নিচ্ছি। আমাদের ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপর গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু হয়েছে।

Advertisement

এর আগে শুক্রবার সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক বন্ধ হয়ে যায়। তার নথিপত্রও অধিগ্রহণ করেছে সরকার। ২০০৮ সালের বিশ্বব্যাপী আর্থিক মন্দার পর এ ঘটনাকে খুচরো ব্যাংকিং ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা বলা হচ্ছে। প্রযুক্তিভিত্তিক স্টার্টআপগুলোতে বিনিয়োগের মাধ্যমে অল্প সময়ে বিপুল অর্থ সঞ্চয় করেছিল সিলিকন ভ্যালি ব্যাংক। আমেরিকার বন্ডে এই ব্যাংক বিনিয়োগ করেছিল। কিন্তু মূল্যস্ফীতির হার কমাতে ফেডারেল রিজার্ভ গত বছর সুদের হার বাড়াতে শুরু করে, যার ফলে বন্ডের দর কমে যায়।

করোনা মহামারির পরে স্টার্টআপগুলোও ক্রমে দুর্বল হয়ে পড়ে। ব্যাংক থেকে গ্রাহকেরা সঞ্চিত অর্থ তুলে নেন। গ্রাহকদের টাকার জোগান দিতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে নিজেদের শেয়ার বিক্রি করতে হয়। ফলে দ্রুত ব্যাংকের অর্থে টান পড়ে। সিলিকন ভ্যালি ব্যাংকের একটি পরিসংখ্যান দেখা যায়, ব্যাংকটি কয়েক দিনে প্রায় ২০০ কোটি ডলার হারিয়েছে। ফলে ব্যাংকের বিপর্যয় এক প্রকার নিশ্চিত হয়ে পড়ে। একই পরিণতি হলো সিগনেচার ব্যাংকেরও।

সাধারণ আমেরিকানরা দাবি জানিয়েছেন, তহবিলশূন্য হয়ে পড়া ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তাদের দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা ও বাহুল্য খরচের দায় ট্যাক্স প্রদানকারীরা নিতে পারি না। এমন অবস্থায় ফেডারেল কর্তৃপক্ষ রবিবার ঘোষণা করেছে যে, বিপদগ্রস্ত ব্যাংকগুলোকে রক্ষার জন্য তারা একটি ‘জরুরি ঋণদান কর্মসূচি’ (বেল আউট) চালু করতে যাচ্ছেন।

সূত্র: আনাদলু এজেন্সি

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!