দেশটির রাজধানী ব্যাংককে আনুমানিক ১১ মিলিয়ন মানুষের বসবাস। যানবাহনের ধোঁয়া, শিল্প কারখানার নির্গমন এবং কৃষিপণ্য পোড়ানোর প্রভাবে ব্যাংককের আকাশে হলুদ-ধূসর রঙের ধোঁয়ার মিশ্রণ। ক্ষতিকর ধোঁয়া পরিণত হয়েছে ঘন কালো কুয়াশায়।
জনস্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, বায়ু দূষণের ফলে ১৩ লাখের বেশি মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। শুধু গত সপ্তাহেই প্রায় ২ লাখ মানুষ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। স্থানীয় সময় গত বুধবার মন্ত্রণালয়ের একজন চিকিৎসক ক্রিয়াংক্রাই নামথাইসোং, শিশু ও গর্ভবতী নারীদের ঘর থেকে বের না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একান্ত প্রয়োজনে বাইরে বের হতে হলে এন-৯৫ মাস্ক পরে বের হতে হবে।
.png)
চলতি বছরের জানুয়ারির শেষের দিকে এবং ফেব্রুয়ারির শুরুতে আরেকবার দূষণের শীর্ষ অবস্থানে ছিল ব্যাংকক। কর্তৃপক্ষ ঐ সময় জনগণকে বাড়িতে থেকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
গত বছর শহরের পরিবেশ উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ব্যাংককের গভর্নর নির্বাচিত হয়েছিলেন চ্যাডচার্ট সিট্টিপুন্ট। কিন্তু শহরের বায়ু পরিস্থিতির খুব বেশি উন্নতি হয়নি। গভর্নর সিট্টিপুন্টের একজন মুখপাত্র বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির আরো অবনতি ঘটলে তারা আবারো আরেকটি আদেশ জারি করতে পারেন।
একভারুন্যু আম্রপালা নামের ঐ মুখপাত্র এএফপিকে বলেন, শহরের নার্সারি স্কুলগুলোতে ছোট শিশুদের সুরক্ষার জন্য এয়ার পিউরিফায়ারসহ বিশেষ ‘নো ডাস্ট রুম’ স্থাপন করা হয়েছে। এর পাশাপাশি যানবাহন থেকে নির্গত ধোঁয়া নিরীক্ষণের জন্য চেকপয়েন্ট স্থাপন করা হয়েছে।
বুধবার ব্যাংককের ৫০টি জেলায় সবচেয়ে বিপদজ্জনক কণার মাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। এই কণাগুলো এতই ছোট যে তারা শরীরের রক্তপ্রবাহে সহজেই প্রবেশ করতে সক্ষম।
বস্তুকণা পিএম-২.৫ বাতাসে থাকা সব ধরনের কঠিন এবং তরল কণার সমষ্টি, যার অধিকাংশই বিপজ্জনক। বিভিন্ন ধরনের রোগ যেমন- প্রাণঘাতী ক্যান্সার এবং হৃদযন্ত্রের সমস্যা তৈরি করে পিএম-২.৫।
দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের তথ্যানুসারে, তিনদিন ধরে ব্যাংককের বেশিরভাগ এলাকায় ‘পিএম ২.৫’ এর মাত্রা বিপদজ্জনক সীমার ওপরে অবস্থান করছে। দেশটির উত্তরের শহর চিয়াং মাইতে পরিস্থিতি আরো খারাপ। এটি সাধারণত একটি কৃষিপ্রধান অঞ্চল। কৃষকরা বছরের এই সময় ফসলের খড় পোড়ায়। ঐ পোড়ার ফলে বাতাসে কার্বণ-ডাই অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন দেখা যায়।
সূত্র: এএফপি