বেসামরিকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার নির্দেশ ছিল মিয়ানমারের জান্তা প্রধানের
অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর মিয়ানমার সেনাবাহিনী যেভাবে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে তার পেছনে দেশটির জান্তা প্রধান দায়ী বলে জানিয়েছেন মানবাধিকার বিষয়ক তদন্ত কর্মকর্তারা।
গত বছর ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের নির্বাচিত সরকারকে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করে দেশটির সেনাবাহিনী। ক্ষমতা দখলের পরদিনই জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং একটি ‘বিশেষ নেতৃত্ব’ গঠন করেন। এই কমান্ডই নিরস্ত্র বেসামরিক নাগরিকদের ওপর প্রাণঘাতী হামলার জন্য এককভাবে দায়ী। মানবাধিকার গ্রুপ ফরটিফাই রাইটস এবং ইয়ালি ল স্কুলের স্কেল সেন্টার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
যৌথ অনুসন্ধানের পর গ্রুপ দুটি জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে জান্তা প্রধান স্নাইপারদের মোতায়েন করেছিলেন। একইসঙ্গে সেনাদের নির্বিচারে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ১৯৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারির পরবর্তী ছয় মাসে সেনাবিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী, চিকিৎসাকর্মী, প্রত্যক্ষদর্শী, প্রাক্তন সামরিক ও পুলিশ সদস্যসহ বিভিন্ন উৎস থেকে ফাঁস হওয়া নথি এবং ১২৮টি সাক্ষ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে এতে।
আরো পড়ুন>> যুদ্ধের মধ্যেই ফের ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো উত্তর কোরিয়া
তারা জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারী, কর্মী এবং ক্ষমতাচ্যুত শাসক দলের সদস্যদের নির্বিচারে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের কাছে লিখিত নির্দেশ পাঠানো হয়েছিল।
ফরটিফাই রাইটসের প্রধান এবং প্রতিবেদনের সহলেখক ম্যাথু স্মিথ বলেছেন, ‘এই অপরাধের জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপসহ কঠোর বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
‘নোহয়্যার ইজ সেফ’ শিরোনামের ওই তদন্ত প্রতিবেদনে ৬১ জন সেনা ও পুলিশ কমান্ডারের নাম উল্লেখ করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তারা তাদের বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের তদন্ত করা উচিত বলেও মত দিয়েছেন।
তাদের মধ্যে ছয় সেনা কর্মকর্তা এখনও দায়িত্বরত। যাদের একজন কর্নেল এবং দুই জন মেজর পদমর্যাদার।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর একজন মুখপাত্রের সঙ্গে প্রতিবেদনের বিষয়ে কথা বলতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
সূত্র: আল-জাজিরা