ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের পতন
ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভের পতন হয়েছে। নিয়ন্ত্রণ নেয়ার পর শহরটিতে আকাশ থেকে রুশ ছত্রীসেনারা নেমে আসছে বলে নিশ্চিত করেছে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী বলছে, খারকিভের বিমান হামলার সাইরেন বেজে ওঠার পরপরই আকাশ থেকে হামলা চালানো শুরু হয়।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, রুশ সৈন্যরা একটি স্থানীয় সামরিক হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে। সংঘাত চলমান রয়েছে।
এটি একটি রুশ ভাষাভাষী শহর এবং এ ঘটনা যখন ঘটছিল তখন সেখানে ভোর ছটা বাজে। ইউক্রেনে সাম্প্রতিক যে সহিংসতা হচ্ছে তার একটি কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে খারকিভ।
এরআগে মঙ্গলবার শহরের একটি স্থানীয় সরকারের কার্যালয়ে মিসাইল হামলা করে রুশ সেনারা। পরের দিকেব শহরের একটি আবাসিক এলাকায় হামলা হয়।মঙ্গলবার খারকিভে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যু হয়, বহু আহত হয়। পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই হামলাকে যুদ্ধাপরাধ বলে অভিহিত করেন।
মঙ্গলবার সকালে শহরের প্রাণকেন্দ্র ফ্রিডম স্কয়ারে এ হামলা হয়। সেখানকার সরকারি কার্যালয়গুলো এ হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।
আরো পড়ুন: কিয়েভের টেলিভিশন টাওয়ারে হামলা, নিহত ৫
খারকিভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার একটি ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে টুইট করেন দিমিত্র কুলেবা এবং সেখানে বলেন, বর্বর রুশ ক্ষেপণাস্ত্রগুলো খারকিভের কেন্দ্রস্থল ফ্রিডম স্কয়্যাার ও সরকারি দপ্তরগুলোতে আঘাত হেনেছে।
ইউক্রেনের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, আঞ্চলিক প্রশাসনিক ভবনের সামনে একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত করেছে। প্রচণ্ড বিস্ফোরণের কারণে আশপাশের বিভিন্ন ভবনের জানালা ও গাড়ি উড়ে গেছে।
ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভে ১৬ লাখ মানুষের বসবাস। কয়েক দিন ধরেই শহরটিতে ইউক্রেনীয় ও রুশ সেনাদের মধ্যে সংঘর্ষ ও বিমান হামলা চলছে।
টানা ৬ দিন ধরে ইউক্রেনে চলছে রুশ আগ্রাসন। এর আগের স্যাটেলাইটের ছবি বলছে, বিশাল সামরিক বহর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে অস্ত্র, সামরিক যান, ট্যাংক, হেলিকপ্টার।
এদিকে ভয়ে আতঙ্কে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ২০ হাজার মানুষ দেশ ছেড়েছে। ইউক্রেন থেকে সবচেয়ে বেশি মানুষ যাচ্ছে পোল্যান্ডে। তাদের আশ্রয় দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জার্মানিও। অন্যদিকে ইউক্রেন থেকে নাগরিকদের সরিয়ে নিতে শুরু করেছে চীনা দূতাবাস।