ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ আন্তর্জাতিক ]

প্রাণ বাঁচাতে কিয়েভ ছাড়তে লাখো মানুষের মরিয়া চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ২২:৫৭, ১ মার্চ ২০২২
প্রাণ বাঁচাতে কিয়েভ ছাড়তে লাখো মানুষের মরিয়া চেষ্টা
ছবি: সংগৃহীত

ইউক্রেনে বেশ জোরেশোরেই হামলা শুরু করেছে রাশিয়া। হামলা হয়েছে রাজধানী কিয়েভেও। এমন পরিস্থিতিতে কিয়েভ ছেড়ে পালাতে শুরু করেছেন লাখো মানুষ। ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন সড়ক। তাই ভরসা ট্রেন। আর ট্রেনে চড়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন লোকজন। কিয়েভের একটি রেলস্টেশনে ধারণ করা ভিডিও ফুটেজে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

‘অসহনীয় দৃশ্য’ বলে বর্ণনা করেছেন ঘটনাস্থলে উপস্থিত দ্য গার্ডিয়ান পত্রিকার প্রতিবেদক শন ওয়াকার। টুইটে তিনি জানান, ‘বৃদ্ধ, শিশু, প্রতিবন্ধী, পোষাপ্রাণীতে এ ট্রেনটি এরই মধ্যে পরিপূর্ণ। লোকে ভয় পাচ্ছে যে এটিই হয়তো পালানোর শেষ সুযোগ হতে পারে’।

৪০ কিলোমিটার লম্বা এক বিশাল রাশিয়ান সামরিক বহর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। যা সেখানে যুদ্ধ তুঙ্গে ওঠার আশঙ্কা জাগিয়েছে।

ষষ্ঠ দিনে পড়া ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান নতুন মোড় নিতে যাচ্ছে আজ। ব্যাপক প্রতিরোধের মুখে পড়লেও রাজধানী কিয়েভ দখলে মরিয়া রুশ বাহিনী।

বিবিসি বলছে, রাশিয়ার একটি বিশাল সামরিক বহর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। স্যাটেলাইট কোম্পানি ম্যাক্সার টেকনোলজির প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সামরিক বহরটি প্রায় ৪০ কিলোমিটার দীর্ঘ।

স্যাটেলাইট ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, স্থলবাহিনী এবং যুদ্ধ হেলিকপ্টার বেলারুশের দক্ষিণাঞ্চলে অবস্থান করছে, যেটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে ২০ মাইলের কম দূরত্বে।

ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী বলছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী রাজধানী কিয়েভের ওপর হামলা শুরু করেছে। কিয়েভসহ ইউক্রেনের সব প্রধান প্রধান শহরে বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সতর্কতায় সাইরেন বাজানো হচ্ছে।

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে বিবিসির চিফ ইন্টারন্যাশনাল করেসপন্ডেন্ট লিস ডুসেট জানাচ্ছেন, রাশিয়ার বিশাল সামরিক বহর কিয়েভমুখী হবার কারণে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক বহরের এই গতিপথ পর্যবেক্ষণ করছে পুরো বিশ্ব।

কিয়েভ শহরের অনেকে আশঙ্কা করছেন রাশিয়ার সৈন্যরা ‘মধ্যযুগীয় কায়দায়’ শহরকে অবরোধ করে রাখবে। শহরের বাসিন্দাদের জন্য খাদ্য, পানি এবং জরুরি সরবরাহ বন্ধের আশংকা করা হচ্ছে।

রাশিয়া যখন ইউক্রেনে হামলা শুরু করে তখন ধারণা করা হয়েছিল শক্তিশালী রাশিয়া মাত্র কয়েকদিন কিংবা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই কিয়েভ দখল করে নেবে।

কিন্তু হামলার পর পাঁচদিন অতিবাহিত হয়েছে। পশ্চিমা দেশগুলোর সরবরাহ করা অস্ত্র দিয়ে ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এবং সাধারণ মানুষ একত্রিত হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ তৈরি করেছে। অনেক সাধারণ মানুষ হাতে অস্ত্র তুলে নিয়েছে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যোগ দিয়েছে।

একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে রাশিয়ার সামরিক কনভয় যদি এক ইঞ্চি করেও অগ্রসর হয়, তাহলেও এটি কিয়েভের দিকেই আসছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!