কড়া নিরাপত্তার মধ্যেই ১ হাজার ২৮৮ কোটির দুষ্প্রাপ্য গয়না লুট
বাস্তবের‘মানি হাইস্ট’-এর মতো ওয়েব সিরিজের যেকোনো থ্রিলারকেও হার মানাবে এ লুটের ঘটনা। কড়া নিরাপত্তাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে লুট হয়েছে কিছু দুষ্প্রাপ্য হীরের গয়না। কেমন ছিল সেই লুটের প্রস্তুতি? আর কীভাবেই বা কষা হয়েছিল পালানোর ছক?

ঘটনাটি ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বরের। জার্মানির ড্রেসডেন ক্যাসেলের কড়া নিরাপত্তা বলয়কে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চুরি হয়ে যায় ঐতিহাসিক গ্রিন ভল্ট, যেখানেই ছিল ঐসব হিরের গয়না। যার মধ্য়ে একটির মূল্য ১ হাজার ২৮৮ কোটি টাকা! বিশ্বকে স্তম্ভিত করা এই দুঃসাহসীক লুট যেকোনো জনপ্রিয় ওয়েব সিরিজের প্লটকেও টেক্কা দেবে।

স্যাক্সোনির শেষ ইলেক্টর ফ্রেডরিক অগস্টাস থ্রি-র শাসনকালে নির্মিত এসব গয়নার ঐতিহাসক এবং সাংস্কৃতিক গুরুত্বও যথেষ্ট।

বহু মূল্য ভল্ট থেকে চার হাজারেরও বেশি গয়না সরাতে মুখোশ পরা দুই চোরের সময় লেগেছিল মাত্র কয়েক মিনিট! দলে মোট আট সদস্য ছিলেন।

এ ঘটনায় ছয় সদস্য ধরা পড়লেও লুঠ হওয়া রত্নসম্ভারের সন্ধান আজও পায়নি পুলিশ।

পালানোর সুবিধার জন্য ঘটনার চার মাস আগেই ১৮০ কিলোমিটার দূরের মেডবার্গ শহর থেকে একটি অডি গাড়ি নিয়ে আসা হয় জার্মানির ডেসড্রন শহরে। গাড়ির রং এবং নম্বরও বদলে ফেলা হয়।

চুরির কয়েকদিন আগেই ড্রেসডেন ক্যাসেলের জানলার শিক ভেঙে ফেলে দুষ্কৃতীরা। ভাঙা শিক আঠার সাহায্যে জোড়া লাগানো হয়, যাতে বাইরে থেকে না বোঝা যায়। এরপর সঠিক সময় অপেক্ষা করতে থাকেন চোরেরা।

লুটের দিন সিসিটিভি-র নজরদারি এড়াতে ‘ব্লাইন্ড স্পট’ খোঁজে নেন দুষ্কৃতীরা। নিখুঁত পরিকল্পনা এবং নির্দিষ্ট ছকেই এগোতে থাকে দুঃসাহসীক চোরেরা।

দুষ্কৃতীরা কুঠারের আঘাতে কাচের দেওয়াল ভাঙার পরেই এ রত্নসম্ভারের নাগাল পান।

প্রশাসন এবং ড্রেসডেন ক্যাসেল কর্তৃপক্ষ আগের দিন রাতে সিকিউরিটি অ্যালার্ম বন্ধ হয়ে যাওয়ার দাবি করলেও অ্যালার্ম বন্ধের কারণ নিয়ে রয়েছে বিস্তর প্রশ্ন ও ধোঁয়াশা।

নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্তর্ঘাত ছাড়া ড্রেসডেন ক্যাসেলের উন্নত আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়া বাস্তবে সম্ভব নয়।

বিশ্বকে স্তম্ভিত করা এ দুঃসাহসী লুটের পেছনের অনেক রহস্যই এখনও তদন্তাধীন। আজও মেলেনি সেই বহুমূল্য হিরের গয়নার হদিস। সূত্র- আনন্দবাজার