কাজাখস্তানে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ব্যাপক সংঘর্ষ, শতাধিক হতাহত
মধ্য এশিয়ার দেশ কাজাখস্তানে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জেরে চলমান বিক্ষোভে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ১২ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু হয়েছে। দেশটির বৃহত্তম শহর আলমাতি’তে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার অভিযানে এ সরকারবিরোধী ‘দাঙ্গাকারীদের’ হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী।
কাজাখ পুলিশের মুখপাত্র জানিয়েছেন, বিক্ষোভকারীরা শহরটির একটি থানার নিয়ন্ত্রণ নেয়ার চেষ্টা করলে তারা পদক্ষেপ নেয়।
এর আগে বিক্ষোভের সময় নিহত হয় নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১৩ সদস্য। এরমধ্যে দু’জনের মাথা কেটে নেয়া হয়েছে। এছাড়া ৩০০ জনের বেশি কর্মকর্তা আহত হয়েছেন। তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হয় এই বিক্ষোভ।
আরো পড়ুন>> হরিণের শিংয়ের গুঁতোয় প্রাণ গেল সেনাসদস্যের!
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজাখ প্রেসিডেন্টের অনুরোধে সেনা পাঠাচ্ছে রাশিয়া। তাদের দেশটি স্থিতিশীল করতে মোতায়েন করা হবে। কালেক্টিভ সিকিউরিটি ট্রিটি অর্গানাইজেশন (সিএসটিও) এর সদস্য হিসেবে এই সহায়তা পাচ্ছে কাজাখস্তান। এই সংস্থাটির অন্য সদস্য দেশগুলো হলো রাশিয়া, বেলারুশ, তাজিকিস্তান, কিরগিজস্তান এবং আর্মেনিয়া।
এলপিজির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত রোববার বিক্ষোভ শুরু হয়। তবে অন্য রাজনৈতিক উদ্বেগ যোগ হলে বিক্ষোভ আরও ব্যাপক আকার ধারণ করে।
আরো পড়ুন>> হাইতির প্রেসিডেন্টকে হত্যায় কলম্বিয়ার সাবেক সেনা কর্মকর্তা অভিযুক্ত
বিক্ষোভের জন্য বিদেশে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ‘সন্ত্রাসী চক্র’কে দায়ী করেছেন প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিনি জরুরি অবস্থা জারির পাশাপাশি রাত্রীকালীন কারফিউ এবং বড় জমায়েতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন।
হতাহত সত্ত্বেও কাজাখস্তানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার আলমাতির মূল স্কয়ারে মিছিল করেছে শত শত বিক্ষোভকারী। তবে সেখানে নিরাপত্তা বাহিনীর বহু সদস্য এবং সাঁজোয়া যান মোতায়েন ছিল।
সূত্র: বিবিসি