প্রেম করেছি বেশ করেছি, আপনারা মাথা ঘামাচ্ছেন কেন?
দুই রাজমিস্ত্রির সঙ্গে পালিয়ে যাওয়া ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বালির দুই গৃহবধূকে ফিরিয়ে এনেছে পুলিশ। বুধবার আসানসোলে মুম্বাই মেল ট্রেন থেকে যখন পুলিশ তাদের গ্রেফতার করতে যায় তখন বড় বধূ অনন্যা পুলিশকে ধমক দিয়ে বলেন, প্রেম করেছিবেশ করেছি। আপনারা নাক গলাচ্ছেন কেন?
বৃহস্পতিবার পুলিশের বরাতে এমনটাই জানিয়েছে আনন্দবাজার প্রত্রিকা। প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃহস্পতিবার আদালতে গোপন জবানবন্দি দেন কর্মকার পরিবারের দুই বধূ। অন্যদিকে দুই রাজমিস্ত্রি শেখর রায় এবং শুভজিৎ দাসকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতে পাঠিয়েছেন বিচারক।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বালির নিশ্চিন্দার বাসিন্দা কর্মকার পরিবারের বড় ছেলে পলাশের স্ত্রী অনন্যা আর ছোট ছেলে প্রভাতের স্ত্রী রিয়া। গত ১৫ ডিসেম্বর শীতের পোশাক কিনতে যাওয়ার নাম করে দুই বধূই ঘর ছেড়েছিলেন। বুধবার আসানসোলে মুম্বাই মেল থেকে তাদের আটক করে পুলিশ। সেই সঙ্গে অপহরণসহ নানা অভিযোগে গ্রেফতার করা হয় শেখর-শুভজিৎ নামে ঐ দুই বধূর দুই প্রেমিককে।
মুর্শিদাবাদের ঐ দুই বাসিন্দা পেশায় রাজমিস্ত্রি। তাদের আসানসোল জিআরপিতে নিয়ে আসে নিশ্চিন্দা থানার পুলিশ। সেখানে থেকে বুধবারই আনা হয় বালিতে।
আসানসোলে সকালে যখন মুম্বাই মেল থামে, সেই সময় কামরা থেকে আটক করা হয়েছিল ঐ চারজনকে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ট্রেনের কামরায় খাকি পোশাকের লোক দেখেই প্রথমে হকচকিয়ে যান চারজন। এরপর পুলিশ তাদের প্রাথমিকভাবে আটক করতেই ফুঁসে ওঠেন কর্মকার পরিবারের বড় বউ অনন্যা। ট্রেনেই পুলিশকে তিনি পাল্টা প্রশ্ন করেন, আমি শেখরকে ভালোবাসি। আপনাদের মাথা ঘামাতে কে বলেছে?
কর্মকার পরিবারের প্রতিবেশীদের সূত্রে জানা গেছে, রিয়ার স্বামী প্রভাত দীর্ঘদিন বাড়িতে ছিলেন না। কর্মসূত্রে তিনি ছিলেন দুবাইতে। ছেলে আয়ুষের যখন বছর দুয়েক বয়স, তখন তিনি বিদেশে যান। বছর পাঁচেক দুবাইতে কাটানোর পর কয়েক মাস আগে তিনি ফিরে আসেন নিশ্চিন্দার বাড়িতে। স্ত্রীর সঙ্গে দূরত্বের জেরেই কী সম্পর্কের টানাপড়েন?
তদন্তকারীদের সূত্রে আরো জানা গেছে, ট্রেনে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কথা স্বীকার করে নেয়ার পর পুলিশকে অনন্যা এও বলেন, আমরা স্বেচ্ছায় চলে গিয়েছিলাম। কেউ জোর করে নিয়ে যায়নি।
তদন্তকারীদের সূত্রে জানা গেছে, সেই সময় কর্মকার পরিবারের ছোট বউ রিয়া চুপ ছিলেন।
পুলিশ জানতে পেরেছে, অনন্যা এবং রিয়ার ঘর ছাড়ার উদ্দেশ্য ছিল, শেখর এবং শুভজিতের সঙ্গে নতুন করে সংসার শুরু করা। তারা স্থির করেছিলেন, নিজেদের পছন্দমতো বিয়ে করে সংসার পাতবেন। কিন্তু মুর্শিদাবাদে শেখর এবং শুভজিতের বাড়ির লোকজন সেই বিয়েতে আপত্তি জানান। অনন্যা এবং রিয়া বিবাহিত হওয়ায় শেখর এবং শুভজিতের পরিবার মেনে নেয়নি। তাই তারা চারজন মিলে রাজ্য ছাড়েন। যান মুম্বাইয়ে এক পরিচিতের কাছে। তবে টাকাপয়সা শেষ হয়ে যাওয়ায় ফের এ রাজ্যে ফিরতে হয় তাদের।
পুলিশ মনে করছে, এই সময়ের মধ্যে বাড়ির লোকজনকে বিয়েতে কোনোক্রমে রাজি করিয়েছিলেন শেখর এবং শুভজিৎ। তাই মুম্বাই সফর শেষ করে তারা রাজ্যে ফেরার পরিকল্পনা করেন।