বিমার টাকার লোভে ৯ বছরের মেয়েকে খুন করল মা ও সৎ বাবা!
মেয়ের নামে করা হয়েছিল বিমা। সেই বিমার টাকা হাতিয়ে নিতে ৯ বছর বয়সি মেয়েকে গলা টিপে হত্যা করে মা ও সৎ বাবা। সম্প্রতি ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের লুধিয়ানায় এই ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় জড়িত থাকা দু ‘জনকেই গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মেয়েটির মা ও তার নতুন স্বামী গত ১৯ জুন হামব্রানের একটি পশুর খাবারের কারখানায় নিয়ে গিয়ে মেয়ে ভারতীকে গলা টিপে খুন করে। ২০১৮ সালে মেয়ের নামে আড়াই লাখ টাকা বিমা করা হয়েছিল। সেই টাকার লোভেই এই খুন বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।
হরপাল সিংহ নামের এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেয়েটির নাম ভারতী। তার মায়ের নাম পিঙ্কি (২৭) ও সৎ বাবার নাম নরেন্দ্র পাল (৩১)। ১৯ জুন হুমব্রান এলাকায় একটি কারখানার মধ্যে খুন করা হয় ভারতীকে।
পিঙ্কি ও নরেন্দ্র ২০১৯ সালে ৩ লক্ষ টাকা দিয়ে একটি জমি কিনেছিল। তার কিস্তির টাকা শোধ করছিল তারা। ইতিমধ্যেই ১ লক্ষ ৪৯ হাজার টাকা দিয়ে দিয়েছিল তারা। কিন্তু বাকি টাকা দিতে সমস্যা হচ্ছিল। ২০১৮ সালে ভারতীর নামে আড়াই লক্ষ টাকার একটি বিমা করেছিল তারা। সেই বিমার টাকা পেতে তারা ভারতীকে খুন করার পরিকল্পনা করে।
যে কারখানার ভিতর ভারতীকে খুন করা হয়েছে, সেখানেই নিজের ছেলে, স্ত্রী ও সৎ মেয়েকে নিয়ে থাকত নরেন্দ্র পাল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তের পর দাবি, ঘুমের মধ্যেই মেয়েকে টেনে নিয়ে গিয়ে এমন ঘটনা ঘটানো হয়। সেখানেই মা পিঙ্কি নিজের ওড়না দিয়ে মেয়ের গলায় ফাঁস লাগিয়ে দেয় এবং শ্বাসরোধ করে খুন করে মেয়েকে। ৯ বছরের মেয়েকে সকালে নিজেরাই হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তারা দাবি করে, মেয়ে জ্ঞান হারিয়েছে। কিন্তু চিকিৎসকেরা মেয়েকে দেখেই মৃত বলে ঘোষণা করে।
প্রতিবেশীরা পুলিশকে জানিয়েছে, নরেন্দ্র পাল ভারতীকে পছন্দ করত না। পিঙ্কির প্রথম স্বামীর সন্তান বলে তাকে মাঝে মধ্যে মারধরও করত। প্রথমে তারা ডাক্তারের কাছে স্বাভাবিক ভাবেই মৃত্যুর দাবি করে মেয়ের। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে পরিষ্কার উঠে আসে, গলা টিপে খুনের তত্ত্ব। পরে পুলিশি জেরায় দু ‘জনেই স্বীকার করে নেয়, আর্থিক সমস্যার সমাধানেই মেয়েকে খুন করেছে তারা। দু‘জনেই আপাতত পুলিশ হেফাজতে রয়েছে।
সূত্র: নিউজ ১৮