ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

লাতিন আমেরিকায় পুলিশি সহিংসতার নির্মম রূপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:০৮, ১৪ অক্টোবর ২০২০
লাতিন আমেরিকায় পুলিশি সহিংসতার নির্মম রূপ
ছবি: সংগৃহীত

লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশি সহিংসতাও যেন পাল্লা দিয়ে বেড়ে চলেছে। পুলিশের হেফাজতে বা বিক্ষোভে প্রায়ই মারা যাচ্ছে সেখানকার মানুষ।

চিলিতে সম্প্রতি স্বাস্থ্যসেবার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলাকালে এক কিশোরকে ব্রিজ থেকে ফেলে দেয়া হয়। গত বছরের শেষে শুরু হওয়া ওই বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের হাতে মারা গেছে অন্তত ৩০ জন বিক্ষোভকারী। বিক্ষোভের সময় পুলিশ বিক্ষোভকারীদের মুখ লক্ষ্য করেও রাবার বুলেট ছোঁড়ে। ফলে অনেকেই চোখে আঘাত পান।

কলম্বিয়ায় সেপ্টেম্বরের শুরুর দিকে থানায় নিয়ে গিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয় আইনের ছাত্র হাভিয়ের অরদোনেজকে। করোনাকালে রাস্তায় মদ্যপান নিষিদ্ধ। অরদোনেজ রাস্তায় মদ খেয়ে করোনা বিধিনিষেধ ভেঙেছিলেন, এই অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছিল। এই ঘটনায় ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে দেশজুড়ে। বিক্ষোভে পুলিশি হামলায় ১৩ জন মারা যান। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে পুলিশের গুলিতে নিহত হন এক তৃতীয় লিঙ্গের নারী।

Advertisement

মেক্সিকোতে পুলিশি হেফাজতে নিহত হন ৩০ বছরের জিওভানি লোপেজ। মাস্ক না পরার কারণে আটক করা হয়েছিল তাকে। এই ঘটনায় বিক্ষোভে ফেটে পড়ে মেক্সিকোর মানুষ। মেক্সিকো পুলিশ বন্দিদের যেভাবে নির্যাতন করে তা ভয়াবহ নৃশংস বলে গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েডের ঘটনা পুরো বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিল। অথচ লাতিন আমেরিকায় পুলিশের নির্যাতন যেন কোনো ব্যাপারই নয়।

মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মুখপাত্র ফার্নান্দা ডোজ কস্টা জানান, ‘কয়েকটি স্থানে সহিংসতার মাত্রা এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।'

ভেনেজুয়েলা এবং এল সালভাদরেও পুলিশের হাতে অনেক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। ব্রাজিলও আছে তালিকার শীর্ষে। তবে এসব দেশে এসব ঘটনার রেকর্ড নথিভুক্ত না থাকায় প্রকৃত সংখ্যাটা আরো বেশি বলে মনে করেন কস্টা।

তার মতে, অনেক পুলিশের মধ্যে ৭০ থেকে ৯০ দশকের স্বৈরশাসনের বীজ গেঁথে আছে। যেমন, চিলির পুলিশের আচরণে ১৯৭৩ থেকে ১৯৮৯ সালের পিনোশের স্বৈরশাসনের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এইসব পুলিশ বিক্ষোভকারীদের রাষ্ট্রের জন্য বিপজ্জনক মনে করে এবং যতই শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ হোক না কেন তাতে বাধা দেয়া উচিত বলে মনে করে।

লাতিন আমেরিকার বেশিরভাগ দেশে পুলিশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে। ফলে তাদের প্রশিক্ষণও হয় ভিন্ন রকম। আর নির্যাতনে সেই প্রশিক্ষণের ছাপ লক্ষ্য করা যায়।

বিশ্বের বিপজ্জনক শহরগুলোর তালিকায় শীর্ষে আছে লাতিন আমেরিকার ৫০টি শহর। এছাড়া কোনো ব্যক্তি নিজেকে নিরপরাধ প্রমাণ করার সুযোগও পান না অনেক ক্ষেত্রে, কেননা, কোনো কোনো এলাকায় পুলিশের নীতি ‘আগে গুলি করো, পরে জিজ্ঞাসাবাদ করা যাবে।'

কস্টা বলছেন, ‘লাতিন আমেরিকায় পুলিশি নির্যাতনের ঘটনা বরাবরই এরকম। আমাদের মানবিক পুলিশবাহিনী দরকার, যারা মানবাধিকারকে শ্রদ্ধা করবে। এমন পুলিশ দরকার নেই, যার কারণে আমার সন্তান কোনো বিক্ষোভে গিয়ে ফিরে আসবে কিনা তা নিয়ে আশঙ্কায় থাকতে হবে।’

সূত্র: এএফপি, ডয়চে ভেলে

ডেইলি-বাংলাদেশ/মাহাদী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!