অতিরিক্ত ১০ টাকায় আইসক্রিম বিক্রিতে জরিমানা দুই লাখ টাকা
আইসক্রিমের প্যাকেটে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ক্রেতার কাছ থেকে ১০ টাকা বেশি নিয়েছিলেন রেস্তোরাঁর মালিক। সেই ১০ টাকা তার গলার কাটা হয়ে ফিরে এলো। অতিরিক্ত টাকা রাখার দায়ে ছয় বছর পর দুই লাখ টাকা জরিমানা গুনতে হয়েছে রেস্তোরাঁর মালিককে।
সম্প্রতি ভারতের মুম্বাই শহরের শাগুন ভেজ রেস্তোরাঁকে এ জরিমানা করা হয়। ছয় বছর আগে আইসক্রিম বিক্রি হলেও সম্প্রতি অভিযোগের শুনানি শেষে দুই লাখ টাকা জরিমানা করে দক্ষিণ মুম্বাই জেলা ভোক্তা অভিযোগ নিষ্পত্তি ফোরাম।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবর, ২০১৪ সালে জুন মাসে মেয়ের আবদার রাখতে শগুন ভেজ রেস্তোরাঁয় আইসক্রিম কিনতে যান এসআই ভাস্কর যাদব ৷ আইসক্রিমের ৭০০ মিলিলিটারের একটা বারের জন্য তিনি ১৭৫ টাকা পরিশোধ করেন। কিন্তু বিল মিটিয়ে আইসক্রিমের প্যাকেটে তারিখ চেক করতে এমআরপি ১৬৫ টাকা লেখা দেখতে পান তিনি। দ্রুত দোকানে ফিরে গিয়ে বাড়তি নেয়া ১০ টাকা ফেরত চান যাদব।
কিন্তু ওই টাকা আইসক্রিম ঠান্ডা রাখার জন্য কুলিং চার্জ হিসেবে নেয়া হয়েছে বলে তাকে জানানো হয়। এ নিয়ে কথা কাটাকাটি করেন এসআই যাদব। টাকা ফেরত না দেয়ায় যাদব দক্ষিণ মুম্বাই জেলা ভোক্তা অভিযোগ নিষ্পত্তি ফোরামে অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানকার ক্রেতা সুরক্ষা আইন অনুযায়ী, দোকানদার ক্রেতার থেকে এমআরপি মূল্যের অধিক দাম নিতে পারে না।
ভোক্ত অধিকার সচেতন ভাস্কর যাদব ও সমাজসেবী প্রকাশ শেঠের প্রচেষ্টায় পাঁচ বছর পর জরিমানার আদেশ দেয়া হয়। ওই ফোরাম বলে, এসআই ভাস্কর যাদবের থেকে অযৌক্তিকভাবে অতিরিক্ত চার্জ নেয়ার দোষে রেস্তোরাঁর মালিক অভিযুক্ত হয়েছেন। মুদ্রিত দামের বেশি বাড়তি টাকা ক্রেতার থেকে কোনোভাবেই নেয়া যায় না।
ফোরাম আদেশে আরো বলে, আইসক্রিম কেনা ছাড়া ওই সময় যাদব রেস্তোরাঁর কোনো সার্ভিসই নেননি। ওয়েটার সার্ভিস, ঠান্ডা পানি খাওয়া, এসির বাতাস দূরের কথা তিনি রেস্তোরাঁর ফার্নিচারও ব্যবহার করেননি তাই কোনো সার্ভিস চার্জ গ্রহণের কোনো প্রশ্ন উঠে না।
ফোরামে মতে, বছরের পর বছর ধরে বাড়তি টাকা হাতিয়ে গ্রাহকদের ঠকাচ্ছে রেস্তোরাঁর মালিক। তাই এতোদিনের শাস্তিস্বরূপ দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।