সিওপিডির রোগীরা ভীষণ শ্বাসকষ্টে ভোগেন। ইনহেলার বা অক্সিজেন সাপোর্ট রাখতে হয় সবসময়েই। বর্তমানে পরিবেশ দূষণ এতটাই বেড়ে গিয়েছে, যে সিওপিডির রোগীদের কষ্ট আরও বেড়েছে। রাস্তায় বেরোলে ধুলো, যানবাহনের ধোঁয়া, কলকারখানার ধোঁয়া তো রয়েছেই, পাশাপাশি ধূমপানের নেশাও মারাত্মক হয়ে উঠছে। ফলে শ্বাসের সমস্যা আরও বাড়ছে। দূষণ থেকে রেহাই পাওয়ার তেমন কোনও উপায় নেই, কাজেই শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাই বাড়িয়ে রাখতে হবে রোগীদের। তার জন্য যেমন জীবনযাপনে নিয়ন্ত্রণ দরকার, তেমনই সুষম আহারেরও প্রয়োজন।
ফুসফুস ভালো রাখতে যা যা খাবেন-
.png)
১. প্রোটিন রাখতেই হবে প্রতিদিনের তালিকায়। মাছ, মাংস, ডিম, ডাল, দুধ, বাদাম, শাক ইত্যাদি প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
২. সিওপিডির রোগীদের কার্বোহাইড্রেটও খেতে হবে পর্যাপ্ত পরিমাণে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অনেকেই কার্বোহাইড্রেট বাদ দেন। কিন্তু এক্ষেত্রে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ভাত, রুটি, আলু, বিনস খেতে হবে। দানাশস্যও রাখুন রোজের পাতে। প্রাতরাশে ওটস বা ডালিয়া খেতে পারেন।
৩. আমলকী খাওয়া খুবই ভালো। আমলকির রসে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। আমলকী খেলে ফুসফুস থেকে দূষিত পদার্থ বা টক্সিন বেরিয়ে যায়।
৪. তুলসী পাতার রস সিওপিডির রোগীদের জন্য খুবই ভালো। প্রতিদিন অল্প করে তুলসির রস খেলে সর্দি-কাশি, কফ জমতে পারবে না। তুলসী পাতা ফুটিয়ে চা করেও খেতে পারেন।
৫. পটাশিয়াম আছে এমন খাবার খেতে হবে। কুমড়োর বীজ, অ্যাভোকাডো, টমেটোতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম আছে। রোজ একটি করে কলা খেলেই পটাশিয়ামের ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব। পুষ্টিবিদরা বলেন, মাঝারি মাপের একটি কলায় ৪০০ থেকে ৪৫০ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম থাকে। মিষ্টি আলু খেতে পারেন যাতে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম থাকে। পুষ্টিবিদেরা বলেন, এক কাপ পালং শাক নিয়মিত খেতে পারলে শরীরে পটাশিয়ামের অভাব হবে না।
৬. সিওপিডি থাকলে ঘন ঘন দুধ চা বা কফি খাবেন না। বদলে খেতে পারেন গ্রিন টি। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট থাকে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।