তার বাবা মতিলাল ও মা কালিমতী। রাখালদাস ১৯০৭ সালে প্রেসিডেন্সি কলেজ হতে ইতিহাস বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতক এবং ১৯১০ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় হতে ইতিহাস বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।
রাখালদাস ১৯১০ সালে কলকাতার ভারতীয় জাদুঘরের প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের সহকারী কর্মকর্তা এবং ১৯১১ সালে ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে যোগদান করেন। ১৯১৭ সালে প্রত্নতাত্ত্বিক তত্ত্বাবধায়ক পদে পদোন্নতি লাভ করেন। কিন্তু ১৯২৬ সালে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেন। এর পর ১৯২৮ সালে বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক পদে যোগ দেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন।
.png)
স্বল্পকালীন জীবনে রাখালদাস কমপক্ষে ১৪টি এককগ্রন্থ (monographs) ও পুস্তক, ৯টি উপন্যাস এবং বাংলা ও ইংরেজিতে তিনশরও বেশি প্রবন্ধ রচনা করেন।
প্রাচীন হস্তলিপি বিদ্যা ও লিপি উৎকীর্ণ বিদ্যায় রাখালদাসের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি তাঁর উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ The Origin of the Bengali Scripts’ হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ও থিওডর ব্লককে উৎসর্গ করেন এবং এজন্য তিনি ১৯১৩ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মর্যাদাকর ’জুবিলী গবেষণা পুরস্কার’ লাভ করেন। তিনিই প্রথম আদি বাংলা লিপির প্রতি পন্ডিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আদি বাংলা লিপিই পরবর্তীকালে বাংলা লিপির রূপ পরিগ্রহ করে।
ভারতীয় মুদ্রা গবেষণার ক্ষেত্রে 'প্রাচীন মুদ্রা' প্রথম পর্ব (বাংলায় লিখিত) ছিল রাখালদাসের সবচেয়ে বড় অবদান। এ গ্রন্থে প্রাচীন ও প্রাক-মধ্যযুগীয় ভারতের মুদ্রাসমূহের বিজ্ঞানসম্মত বর্ণনা ও সমালোচনামূলক বিশ্লেষণ লিপিবদ্ধ করা হয়েছিল। ১৯১৪ সালে প্রকাশিত এটিই ভারতীয় ভাষায় মুদ্রাতত্ত্বের ওপর লিখিত সর্বপ্রথম গ্রন্থ। প্রাচীন ও মধ্যযুগীয় ভারতের ইতিহাস সম্পর্কিত কলা, স্থাপত্য ও মূর্তিতত্ত্বের গবেষণায় অনবদ্য অবদান রাখেন তিনি।
ভারতীয় শিল্পকলার চর্চায় রাখালদাসের সর্বাধিক উল্লেখযোগ্য কীর্তি হলো তাঁর মৃত্যুর পরে ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত Eastern Indian Medieval School of Sculpture নামক গ্রন্থটি।
সিন্ধু সভ্যতার মহেঞ্জোদারো নগরীর আবিষ্কর্তা হিসেবে রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যয় একটি অতি পরিচিত নাম। পশ্চিম অঞ্চলের প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রত্নতাত্ত্বিক হিসেবে তিনি গ্রিক বিজয় স্তম্ভের সন্ধানে সিন্ধু অঞ্চলে গিয়েছিলেন এবং ঢিবির শীর্ষদেশে বৌদ্ধ বিহারের উৎখননকালে তিনি এমন কতগুলি নিদর্শনের সন্ধান পান যা তাঁকে হরপ্পায় সাহানী কর্তৃক প্রাপ্ত অনুরূপ নিদর্শনের কথা মনে করিয়ে দেয়। ১৯২২ সালে তিনি মহেঞ্জোদারোর খননকার্য শুরু করেছিলেন।
১৯৩০ সালের ৩০ মে মাত্র ৪৫ বছর বয়সে কলকাতায় তাঁর অকাল মৃত্যু হয়।
ডেইলি বাংলাদেশ/এমএইচ