ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

মৌসুম শেষে ১০ টাকার কাঁঠাল হাজার

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১০:৫১, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
মৌসুম শেষে ১০ টাকার কাঁঠাল হাজার
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মৌসুমে যে কাঁঠাল ১০ টাকাতেও বিক্রি হয়েছে, মৌসুম শেষে সেই কাঁঠালই উঠেছে ১ হাজার টাকায়। সরবরাহ কমে যাওয়ায় গাজীপুরের শ্রীপুরের বিভিন্ন বাজারে শেষ মৌসুমের কাঁঠালের দাম এখন আকাশছোঁয়া। আকার ও জাতভেদে প্রতিটি কাঁঠাল বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত। বড় ও সুস্বাদু কোনো কোনো কাঁঠালের দাম হাঁকা হচ্ছে ১ হাজার টাকা।

বুধবার উপজেলার বরমী বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আগের মতো কাঁঠালের স্তূপ নেই। ফলের বাজারে কয়েকজন বিক্রেতার কাছে অল্প কিছু কাঁঠাল রয়েছে। ছোট, মাঝারি ও বড় আকারের এসব কাঁঠালের দামও ভিন্ন। ক্রেতারা দাম শুনে অনেকটা অবাক হচ্ছেন।

Advertisement

পাইকার বিল্লাল হোসেন আটটি কাঁঠাল নিয়ে বসেছিলেন বিক্রির জন্য। আকারভেদে প্রতিটির দাম ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা। একটি বড় কাঁঠাল দেখিয়ে তিনি বলেন, ‘এক হাজার টাকার এই কাঁঠাল সিজনে দাম ১০ টাকাও না। কিছু গাছে শেষ সিজনে কাঁঠাল ধরে। এগুলো আমরা বেশি দামে কিনে আনি। স্বাদও বেশি, মানুষও বেশি দামে কিনে।’

পেশাদার কাঁঠাল ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীও ১৫টি কাঁঠাল নিয়ে বসেছিলেন বরমী বাজারে। তার কাঁঠালগুলোর দাম ২০০ থেকে ৮০০ টাকা। তিনি জানান, মৌসুমের সময় গ্রামে গ্রামে প্রচুর কাঁঠাল পাওয়া যায়। এখন গাছে কাঁঠাল কম থাকায় সংগ্রহ করতেই বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। শেষ মৌসুমের কাঁঠালের স্বাদ ভালো হওয়ায় ক্রেতাদেরও আগ্রহ রয়েছে।

মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘বড় একটা কাঁঠালের দাম ১ হাজার টাকা। মিষ্টি বেশি, কোষ বড়, গন্ধ মধুর মতো।’

ব্যবসায়ীরা জানান, মে থেকে জুলাই পর্যন্ত শ্রীপুরের বাজারগুলোতে কাঁঠালের ব্যাপক সরবরাহ থাকে। তখন কম দামে কাঁঠাল পাওয়া গেলেও মৌসুম শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে সরবরাহ কমে যায়। জৈনাবাজার, গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি, নয়নপুর, বরমী ও মাওনা চৌরাস্তার বাজারেও এখন আগের মতো কাঁঠাল পাওয়া যাচ্ছে না।

জৈনাবাজারের পাইকার সাইফুল ইসলাম বলেন, স্থানীয় বাজারে এখন কাঁঠালের সরবরাহ খুবই কম। দু-একটি কাঁঠাল পাওয়া গেলেও সৌখিন ক্রেতারা বেশি দাম দিয়ে কিনছেন। শেষ মৌসুমের কাঁঠাল ঢাকার নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় নিয়ে গেলে ভালো দাম পাওয়া যায়। সেখানে এসব কাঁঠালের আলাদা চাহিদা রয়েছে।

ফল ব্যবসায়ী ইসলাম উদ্দিন বলেন, সব জাতের কাঁঠাল একই সময়ে ধরে না। কিছু জাতের গাছে আগাম ফল আসে, আবার কিছু গাছে মৌসুমের শেষ দিকে কাঁঠাল ধরে। শেষ সময়ে সরবরাহ কম থাকায় এসব কাঁঠালের দাম বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, জাত বুঝে কাঁঠালের চারা রোপণ করতে পারলে কৃষকের লাভ বেশি হতে পারে। আগাম ও শেষ মৌসুমের কাঁঠালের বাজারে চাহিদা থাকে।

শ্রীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা বন্যা বলেন, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কিছু আগাম ও ১২ মাসি কাঁঠালের জাত উদ্ভাবন করেছে। জাত বুঝে চারা রোপণ করলে কৃষকরা সারা বছর কাঁঠাল উৎপাদন করে ভালো দাম পেতে পারেন।

তিনি জানান, শ্রীপুরে এ বছর কাঁঠাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬০ মেট্রিক টন। গত বছরও প্রায় একই লক্ষ্যমাত্রা ছিল এবং তা অর্জিত হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/DB-M-01
ট্যাগ: গাজীপুর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!