চীনের বৃদ্ধ লোক ও বাঁশগাছের গল্প
অনেক বছর আগে চীনের এক পাহাড়ি গ্রামে বাস করতেন এক বৃদ্ধ চাষি। তিনি প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পরম যত্নে একটি করে বাঁশগাছের চারা লাগাতেন, পানি দিতেন, আগাছা পরিষ্কার করতেন।
একজন তরুণ এসে জিজ্ঞেস করল,
— “চাচা, আপনি প্রতিদিন এত কষ্ট করেন, কিন্তু তো দেখছি গাছ তো বাড়ছেই না!”
বৃদ্ধ হেসে বললেন,
— “তুমি বাইরে থেকে দেখছ, আমি ভেতরটা জানি। এই গাছ এখন মাটির নিচে শেকড় গেড়ে নিজেকে প্রস্তুত করছে।”
.png)
তরুণ হেসে চলে গেল।
কিন্তু বৃদ্ধ থামলেন না। একইভাবে ১ বছর, ২ বছর, ৩ বছর… কিছুই দৃশ্যত বদলায়নি।
চতুর্থ বছরে হঠাৎ একদিন দেখা গেল — গাছগুলো দিনে ৩ ফুট করে বাড়ছে!
মাত্র ৬ সপ্তাহে তারা ৮০ ফুট লম্বা হয়ে গেল।
আশ্চর্য জনক ব্যাপার হলো, এত কিছু করার পর দেখা যায় প্রথম বছরে চারার নামগন্ধ নেই, সেটি বাড়ার কোন সম্ভাবনাই নেই । প্রথম বছর যায়, দ্বিতীয় বছর আসে ।এ বছরেও কোনোরকম লক্ষন দেখা না। তৃতীয় বছরেও যখন দেখা যায় না কোনী সম্ভাবনা, অনেকেই মনে করে বীজটা মারা গেছে। বাঁশ হবার সম্ভাবনা নেই ।
এই করেই যখন চতুর্থ বছর কেটে যায়, তখন মোটামুটি সবাই আসা ছেড়ে দেয়। চমক দেখা যায় এর পরপরই । চতুর্থ বছরের শেষে দেখা গেল ছোট্ট একটা চারার মত উঠেছে সেখান থেকে । পরের দিন থেকেই তুমি দেখবে হু হু করে বাড়তে শুরু করেছে চীনা বাঁশগুলো ! এক ফিট , দু ফিট করতে করতে এই দেখা যাবে ৫ সপ্তাহে ৯০ ফুটি দানব বাঁশে পরিণত হয়েছে এই চীনা বাঁশ গুলো ।
উপসংহার:
সবচেয়ে বড় অগ্রগতি অনেক সময় আমাদের চোখে পড়ে না — কারণ তা ঘটে ভিতরে।
তোমার পরিশ্রম আজ ফল না দিলেও, একদিন ঠিকই ফলবে — হঠাৎ, বিস্ময়করভাবে।
তোমার কাজ শুধু — বিশ্বাস রেখে লেগে থাকা।