আশ্বিন মাসে প্রায় দশদিন ধরে দুর্গা পূজার উৎসব পালিত হয়। যদিও প্রকৃত অর্থে, উৎসব শুরু হয় ষষ্ঠী দিন থেকে। যুগ যুগ ধরে বিশ্বাস করা হয় যে, এদিনই দেবী দুর্গা মর্তে এসেছিলেন। দুর্গাপূজার পাঁচ দিন মহাষষ্ঠী, মহাসপ্তমী, মহাঅষ্টমী, মহানবমী এবং বিজয়া দশমী হিসেবে পরিচিত। এটি সবারই প্রায় জানা।
তবে অনেকেই অজানা, প্রতিটি দিনের নিজস্ব অর্থ এবং তাৎপর্য রয়েছে। মহালয়ার দিন পিতৃপক্ষের অবসান হয়ে, মাতৃপক্ষের শুরু হয়। সেদিনই আক্ষরিক অর্থে দুর্গা পূজার সূচনা হয়। কথিত আছে মহালয়ার দিন অসুর ও দেবতাদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল।
.png)
দুর্গাপূজার প্রথম দিন: ২২ আশ্বিন, ইং ৯ অক্টোবর (বুধবার) মহাষষ্ঠী
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, মহাষষ্ঠীর দিন দেবী দুর্গা তাঁর সন্তান- সরস্বতী, লক্ষ্মী, গণেশ এবং কার্তিককে নিয়ে মর্তে অবতরণ করেন। মহাষষ্ঠীর প্রাক্কালে দুর্গার বোধনের পর সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান শুরু হয়। পূজা প্যান্ডেল,মন্দির, বনেদি বাড়ি এমনকি যেখানে দুর্গার আরাধনা করা হয়, সর্বত্র ঢাকের তালে মেতে ওঠেন সকলে।
দুর্গাপূজার দ্বিতীয় দিন: ২৩ আশ্বিন, ইং ১০ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) মহাসপ্তমী
মহাসপ্তমীতে মহাপূজা হয়। সূর্য ওঠার আগেই, একটি কলাগাছ পবিত্র গঙ্গার জলে স্নান করিয়ে, তারপর এটিকে নববধূর (কলা বউ) মতো নতুন শাড়ি পরানো হয়।
দুর্গাপূজার তৃতীয় দিন: ২৪ আশ্বিন, ইং ১১ অক্টোবর (শুক্রবার) মহাঅষ্টমী
পৌরাণিক কাহিনি অনুসারে, বিশ্বাস করা হয় যে দেবী দুর্গা মহাঅষ্টমীতে মহিষাসুরকে বধ করেছিলেন। এই দিন ভক্তেরা পুষ্পাঞ্জলির মাধ্যমে দেবীকে আরাধনা করেন। ৯ বছরের কম বয়সী মেয়েরা, এদিন দেবী দুর্গা রূপে পূজিত হন। এই আচারটি 'কুমারী পূজা' নামে পরিচিত। এরপরে, অষ্টমী ও নবমী তিথির সন্ধিক্ষণে হয় 'সন্ধি পূজা'।
দুর্গাপূজার চতুর্থ দিন: ২৪ আশ্বিন, ইং ১১ অক্টোবর (শুক্রবার) মহানবমী
সন্ধি পূজা শেষ হলে শুরু হয় মহানবমী। নবমীর সন্ধ্যাবেলা, দেবীর মহা আরতি করা হয়।
দুর্গাপূজার পঞ্চম দিন: ২৫ আশ্বিন, ইং ১২ অক্টোবর (শনিবার) বিজয়া দশমী
বিজয়া দশমী দুর্গাপূজার উৎসবের শেষ দিন। প্রতিমাগুলো বরণ করে মহিলারা ‘সিঁদুর খেলায়’ মেতে ওঠেন। এরপর জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়ার হয় প্রতিমাগুলি। ঘট বিসর্জনের অর্থ, পূজা সমাপ্তি। বিসর্জনের সময় লম্বা শোভাযাত্রা বের করে। যেখানে নাচে- গানে, হাসি মুখে সকলে বিদায় জানান উমাকে।