বিশ্বের যেকোনো দেশের বয়স্ক নাগরিকের অনুপাত সবচেয়ে বেশি জাপানে। দেশটিতে কোনো নাগরিকের বয়স ৬৫ বা এর বেশি হলে তাদেরকে প্রবীণ হিসেবে গণ্য করা হয়। জাপানের স্বরাষ্ট্র ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের গত বছর প্রকাশিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জাপানে এই বয়সসীমার মানুষ রয়েছেন ২৯ দশমিক ১ শতাংশ; যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো, বৃদ্ধদের বেশিরভাগই একাকিত্বে ভুগছেন।
অনেক মরদেহ উদ্ধার হয়েছে এক বছর পর
.png)
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত জাপানে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ তাদের বাড়িতে একা একা মারা গেছেন। দেশটির ন্যাশনাল পুলিশ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে প্রায় চার হাজার জনের লাশ তাদের মৃত্যুর এক মাসের বেশি সময় পরে উদ্ধার করা হয়েছে। ১৩০টি মরদেহ এক বছর পর উদ্ধার করা হয়েছে। তার মানে এই এক বছর তারা বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে, কেউ খোঁজই নেয়নি।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, এই সময়ে মোট ৩৭ হাজার ২২৭ জন মানুষ একাকী বাড়িতে মারা গেছেন। তাদের মধ্যে ৬৫ বছর এবং তার বেশি বয়সী মানুষ ছিলেন ৭০ শতাংশের বেশি। মৃতদের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশের লাশ একদিনের মাথায় উদ্ধার করা হয়েছে। তবে প্রায় ৩ হাজার ৯৩৯ জনের মরদেহ মৃত্যুর এক মাসের বেশি সময় পরে আবিষ্কৃত হয়েছে।
একাকী মারা যাওয়া মানুষের মধ্যে ৭ হাজার ৪৯৮ জনের বয়স ৮৫ বছর বা তারও বেশি। এ ছাড়া ৫ হাজার ৯২০ জনের বয়স ৭৫-৭৯ বছরের মধ্যে এবং ৫ হাজার ৬৩৫ জনের বয়স ৭০-৭৪ বছরের মধ্যে।

জাপানে কেন এত বেশি বৃদ্ধ মানুষ?
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপানে জন্মহারের তুলনায় মৃত্যুহার বেশি, যা বিশ্বের তৃতীয়-বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির নেতাদের ভাবিয়ে তুলেছে। এছাড়াও, জাপান বিশ্বের সর্বোচ্চ আয়ুর দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম, যে কারণে দেশটিতে প্রবীণ জনসংখ্যা আরও ফুলে-ফেঁপে উঠেছে।
ক্রমবর্ধমান শ্রম ঘাটতি মোকাবিলায় এবং স্থবির অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করার আশায়, জাপান সরকার গত এক দশকে প্রবীণ এবং ঘরে অবস্থানরত মায়েদের পুনরায় কাজে যোগদান করতে উৎসাহিত করেছে। আর সরকারের সেই বার্তা কিছুটা কাজেও দিয়েছে; জাপানে বর্তমানে রেকর্ড ৯.১২ মিলিয়ন প্রবীণ কর্মী রয়েছেন এবং টানা ১৯ বছর ধরে এই সংখ্যা বেড়েই চলেছে।
জাপানে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা আরো বাড়বে
এ বছরের শুরুর দিকে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি রিসার্চ এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানায়, জাপানে একাকী বসবাসকারী প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা আগামী ২৫ বছরের মধ্যে অনেক বৃদ্ধি পাবে। ২০৫০ সালের মধ্যে দেশটির প্রতি পাঁচটি পরিবারের মধ্যে একজন বয়স্ক ব্যক্তিকে একা একা জীবন কাটাতে হতে পারে।
১৯৮০র দশকে অর্থনৈতিকভাবে চাঙ্গা হয়ে ওঠার পর থেকে জাপানের জনসংখ্যা ক্রমশ হ্রাস পেয়েছে। স্থিতিশীল জনসংখ্যা বজায় রাখার জন্য নারীদের প্রজনন বছরগুলোতে গড় সন্তান জন্মের হার জনপ্রতি ২.১ থাকা প্রয়োজন হলেও, জাপানে তা কমে মাত্র ১.৩-এ নেমে এসেছে।
ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, জাপানি তরুণ-তরুণীদের দেরিতে বিয়ে করার প্রবণতা বা অনেকের সন্তান না নেওয়ার সিদ্ধান্তের কারণে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বাড়ছে।