সাধারণত ঘণ্টায় ৬৫ কিলোমিটার (৪০ মাইল) বেগ প্রাপ্ত হলে নিম্নচাপটি ‘ঘূর্ণিঝড়’ আখ্যা পায়। এবারের ঘূর্ণিঝড়ের নাম ‘মিধিলি’। নামটি দিয়েছে মালদ্বীপ। মিধিলি অর্থ ‘ফলপ্রসূ বিষয়’।
ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’ কোন দিকে অগ্রসর হবে?
.png)
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’-এর অগ্রভাগ বাংলাদেশের উপকূল স্পর্শ করেছে। এর প্রভাবে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে বাতাসের গতি এরই মধ্যেই বেড়ে গেছে। আরো উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে সন্ধ্যা নাগাদ পুরোপুরি স্থলভাগে উঠে আসতে পারে এ ঝড়।
বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় মিধিলি সকাল ৯টার দিকে মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ২৬৫ কিলোমিটার দূরে ছিল। এটি উত্তর ও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে।
আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন বলেন, ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রভাগ দুপুরের দিকেই উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করতে পারে। তবে এটি অনেকটাই দুর্বল হয়ে যাবে। গভীর নিম্নচাপ থেকে সৃষ্ট মেঘ দেখেন সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে, ফলে সবখানে বৃষ্টি হচ্ছে যা ঘূর্ণিঝড়কে দুর্বল করে দিয়েছে। তবে হালকা বৃষ্টি চলতে থাকবে এবং বাতাসও বাড়বে।
বর্তমানে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে আগের মতই ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস। বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় সংকেত ব্যবস্থায় ৫, ৬ ও ৭ নম্বর বিপদ সংকেত সতর্কতার সমান মাত্রা বোঝায়। ঘূর্ণিঝড় বন্দরের কোন দিক দিয়ে যাবে, তা বোঝাতে সংখ্যায় পার্থক্য করা হয়।
আবহাওয়ার বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরের ওপর দিয়ে দমকা বা বাড়ো হাওয়া বয়ে যাচ্ছে। সেই সঙ্গে চলছে ভারি (৪৪-৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতি ভারি ৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ।
ঘূর্ণিঝড় ‘মিধিলি’র প্রভাব
ঘূর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে উপকূলীয় জেলাগুলোতে বৃহস্পতিবার রাত থেকেই চলছে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টি। শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে সারা দেশে সব ধরনের লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ- বিআইডব্লিউটিএ।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরে পণ্য ওঠানামা কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ। উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।
বিপদে যেসব জেলা
ঘূর্ণিঝড়ের অগ্রবর্তী অংশের প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দেশের উপকূলীয় এলাকা, এর অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (৮৯ মিলিমিটারের বেশি) বর্ষণ অব্যাহত রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা বা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাগর উত্তাল রয়েছে।
তাই ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপৎসংকেত এবং চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপৎসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
আবহাওয়া অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলা বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা, লক্ষ্মীপুর, ফেনী এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরগুলোর নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৩ থেকে ৫ ফুটের বেশি উচ্চতার বায়ুতাড়িত জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট বিভাগে ভারী (৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার) থেকে অতিভারী (২৮৯ মিলিমিটার) বর্ষণ হতে পারে।