কিন্তু কে ছিলেন এই ভাবনার নেপথ্যে? তিনি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রথম ডাইরেক্টর জেনারেল জর্জ ব্রক চিশলম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সর্বোচ্চ পদে আসার পরেই তিনি ভাবতে শুরু করেন মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে।
ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব মেন্টাল হেলথ গড়ে ওঠে সেই ভাবনা থেকে। জর্জ পেশায় ছিলেন এক মনোবিদ। কিন্তু শুধুই কি মনোবিদ হওয়ার জন্য মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে এত ভাবনা? নাহ। দুই বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন এই মনোবিদ। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় নেহাতই অল্প বয়স তার। কানাডার ওই যুবক ১৯১৫ সালে ১৯ বছর বয়সে যোগ দেয় প্রথম বিশ্বযুদ্ধে।
.png)
কানাডিয়ান এক্সপেডিশনারি ফোর্সের পঞ্চদশ ব্যাটেলিয়নে ছিলেন জর্জ। মূলত কাজ ছিল সেনাদের জন্য রান্না করা ও গুপ্তচরবৃত্তি। যুদ্ধেই একবার জখম হওয়ার পর পদোন্নতি হয় জর্জের।
ক্যাপটেন জর্জ ১৯১৭ সালে ফিরে টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ওষুধ নিয়ে পড়াশোনা করেন। সেখান থেকে এমডি পাশ করে ১৯২৪ সালে শিক্ষানবিশ হয়ে পাড়ি দেন ব্রিটেনে। এর ছয় বছর পর ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয় শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় দেশে ফিরে আসেন জর্জ। নিজের দেশের সেনাবাহিনীতে মনোবিদ হিসেবে যোগ দেন। তাকে মিলিটারি চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ পদ প্রদান করে সরকার। এর পর যুদ্ধ শেষে কানাডার স্বাস্থ্য দফতরের ডেপুটি মিনিস্টার পদের দায়িত্ব দেওয়া হয় জর্জকে। ১৯৪৮ সাল নাগাদ তৈরি হচ্ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরিকল্পনা। প্রধান দায়িত্বের অন্যতম পদে ছিল এই ব্যক্তিই। নির্বাচনে ৪৬-২ ভোটে জিতে হু-এর প্রথম ডাইরেক্টর জেনারেল হন জর্জ ব্রক চিশলম।
জর্জ সুস্থ থাকা বলতে শুধু মানুষের শরীর ভালো থাকা বুঝতেন না। বিশ্বযুদ্ধের সময়ে মানুষের শোচনীয় অবস্থা খুব কাছ থেকে দেখেছিলেন তিনি। তাই তার কথায়, মানসিক ও সামাজিকভাবেও সুস্থ থাকাও একজন মানুষের জন্য জরুরি। এই ভাবনাতেই লুকিয়ে ছিল মানসিক স্বাস্থ্য দিবসের বীজ। ওয়ার্ল্ড ফেডারেশন অব মেন্টাল হেলথের উদ্যোগে ১৯৯২ সাল থেকে পালন করা হয় এই বিশেষ দিনটি। তখন থেকেই বছর বছর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে নানা সচেতনতা প্রচার করে চলেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।