ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ ফিচার ]

ডেঙ্গুতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন

ডা. ফারহানা ইসলাম নীলা
প্রকাশিত: ২১:৩৩, ১৩ জুলাই ২০২৩
ডেঙ্গুতে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হোন
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ডেঙ্গু এখন মানুষের মতো ভোল পাল্টে ফেলেছে। আগেকার কথাগুলো মিথ্যে করে এখন নোংরা পানিতেও বংশবিস্তার করছে। দিনে রাতে কামড়াচ্ছে।

জ্বর হওয়ার পরবর্তী সময়ে ডেঙ্গু  NS1 অ্যান্টিজেন এবং ৫-৭ দিনের মাথায় এন্টিবডি IgM,IgG সেও মিথ্যে বলছে। পরীক্ষায় এসব ধরা যাচ্ছে না কখনো কখনো। 

জ্বর হলেই পরীক্ষা করুন। নেগেটিভ হলেও উপসর্গগুলো খেয়াল করুন।

Advertisement

১. তীব্র মাথা ব্যথা
২. অরুচি বা ক্ষুধামন্দা 
৩. বমি বা বমি বমি ভাব
৪. দূর্বলতা
৫. শরীরে লাল লাল দাগ
৬. চুলকানি 
৭. চোখের পেছনে ব্যথা
৮. শরীরে ব্যথা
৯. কখনো ডায়রিয়া 
১০. অস্থিরতা
১১. শ্বাসকষ্ট

ইত্যাদি হলে ডেঙ্গু হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

জ্বর এলে তাই প্রচুর পানি পান করতে হবে। তরল জাতীয় খাবার খেতে হবে। অস্থিরতা অনুভূত হলে পানি, স্যালাইন, শরবত, ডাব ইত্যাদি খেতে হবে।

শরীরে ব্যথা মারাত্মক হতে পারে।

ডেঙ্গুতে সাধারণত জ্বর চলে যাওয়ার পর ভয়টা বেশি। তখন প্লাজমা লিকেজ হয়ে রোগী শকে চলে যেতে পারে। প্লাটিলেট কমতে শুরু করে।

প্লাটিলেট যে কারণে কমে সেটা ডেঙ্গুর কারণে। অযথা প্লাটিলেট ট্রান্সফিউশন দেওয়ার জন্য হয়রান হবেন না। যে প্লাটিলেট দেবেন সেগুলোও কিন্তু একইভাবে ভেঙে যাবে।

অযথা পরিসঞ্চালনের বিরূপ প্রতিক্রিয়া কিন্তু দেখা যাচ্ছে। প্লাটিলেট কমলেও পরে আবার সেটা বাড়তে থাকে। একবার বাড়তে শুরু করলে আর ভয়ের কিছু নেই।

রক্তের ঘনত্ব বাড়তে থাকে। কখনো কখনো পেটে, বুকে পানি জমে। হিমাটোক্রিট দেখে এই বিষয়টি বোঝা যায়।

জ্বর নেই মানে আপনি শঙ্কামুক্ত- কথাটি ভুল।

কোনো কারণে মুখে খেতে না পারলে পর্যাপ্ত পানির জন্য স্যালাইন দিতে হয়। সেক্ষেত্রে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

প্লাটিলেট এবং সিবিসি টেস্ট নিয়মিত করতে হবে।

রক্ত পড়লে যেমন দাঁত ও মাড়ি থেকে, বমি বা কাশির সঙ্গে বা অন্য কোনোখান থেকে- জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে। 

রোগীদের মশারি ব্যবহার করতে হবে। 
নিজেদের সচেতন হতে হবে। 
বাড়িতে কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। তিনদিনের বেশি সময় ধরে কোথাও পানি থাকলে বদলে বা ফেলে দিতে হবে।
এসব বিষয় সবাই জানেন বলেই মানি। তবুও আবার বলা- সাবধান হতে হবে। 

বাচ্চাদের এবার ডেঙ্গু বেশি হচ্ছে। দিনে-রাতে বাচ্চা যখনই ঘুমাক, মশারিতে রাখবেন।

ডেঙ্গু মহামারির পর্যায়ে চলে যাচ্ছে বা গেছে।
নিজেদের সুরক্ষা নিজেরাই নিশ্চিত করুন। সুস্থ থাকুন পরিবার পরিজন নিয়ে। 

জ্বর বা ব্যথার জন্য প্যারাসিটামল ছাড়া অন্য কোনো ব্যথার ওষুধ খাবেন না।
ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো ওষুধ খাবেন না।

ডেঙ্গু বিষয়ে মনে সংশয় থাকলেও পানি এবং তরল খাবারের বিষয়ে কোনো সংশয় রাখবেন না। 

ডেঙ্গু কিন্তু শুধু ঢাকা বা ঢাকার আশেপাশে সীমাবদ্ধ নেই। সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। অতএব গ্রামে গঞ্জে কারো জ্বর এলে এবং পরীক্ষা করার সুযোগ না থাকলে- ডেঙ্গু হিসেবেই চিকিৎসা দিতে হবে।

ডেঙ্গুতে আলাদাভাবে কোনো ওষুধ নেই। পানি আর প্যারাসিটামল ব্যস। কিন্তু কোনো জটিলতা হলে চিকিৎসা হাসপাতালে। 

কারো কথায় প্ররোচিত হয়ে উল্টাপাল্টা ওষুধ খাবেন না। ভুলেও কোনো ব্যথার ওষুধ খাবেন না।

কারো যদি দ্বিতীয়, তৃতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে সেক্ষেত্রে ঝুঁকি কিন্তু বেশি। 

এবার তবে থামি। বুঝ আপনাদের ---
অসুস্থ হয়েন না।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআরকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!