১৫ বছরেই বিজ্ঞানী, ২০২০ এর ‘বর্ষসেরা শিশু’ গীতা
প্রতিনিয়তই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শিশুরা তাদের কাজ আর বুদ্ধিমত্তা দিয়ে টাক লাগিয়ে দিচ্ছে মানুষকে। বয়সের তুলনায় কাজগুলো করছেন একেবারে বয়স্কদের মতো। তেমনই ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন উদ্ভাবক ও বিজ্ঞানী গীতাঞ্জলি রাও। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই নামের সঙ্গে তকমা লাগিয়েছেন বিজ্ঞানীর।
বয়স সবে ১৫। অথচ এরই মধ্যে পানিদূষণ থেকে শুরু করে সাইবার বুলিং ও আফিম আসক্তির মতো বিষয় নিয়ে কাজ করছে তরুণদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত অর্থাৎ সংক্ষেপে ‘স্টেম’ বিষয়ে আগ্রহী করতে চায় সে। আর এসব মিলিয়ে তাকে ২০২০ সালের ‘বর্ষসেরা শিশু’ নির্বাচিত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের টাইম সাময়িকী। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সম্মান জানানো হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে কম বয়সী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সুবর্ণ আইজ্যাক বারীকে। বলতে গেলে গীতাঞ্জলি প্রতিবেশী আমাদের।
গীতাঞ্জলি যেকারণে সেরা:
গীতাঞ্জলি রাও মা ভারতী এবং বাবা রাম রাওয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডোর লোন ট্রিতে থাকে। মহামারিকালের দিনগুলো বাড়িতেই কেটেছে বিশ্বের সব শিক্ষার্থীর। অন্যদের মতোই গীতা পুরো সময়টাই কাটিয়েছে বাড়িতে। ভার্চ্যুয়াল ক্লাসের পাশাপাশি অংশ নিয়েছে সেমিনারে, বক্তব্য দিচ্ছে তরুণদের উদ্দেশে। গীতা শুধু যে উদ্ভাবন নিয়েই আছে, তা নয়। ফেন্সিং, নাচ, গান, এমনকি লকডাউনের দিনগুলোতে ‘রুটি তৈরির বিজ্ঞান’ও রপ্ত করছে সমানতালে।
আরো পড়ুন: অফিসে ‘বস’ এর চেয়ারের পেছনে তোয়ালে থাকার রহস্য

টাইম–এর বর্ষসেরা শিশু নির্বাচিত হওয়ার পর গীতাঞ্জলির সাক্ষাৎকার নেন অস্কারজয়ী মার্কিন অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলিকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে গীতাঞ্জলি সমস্যা মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিয় কাজ অব্যাহত রাখা ছাড়াও তরুণ উদ্ভাবকদের ‘গ্লোবাল কমিউনিটি’ গড়ে তোলার কথাও জানিয়েছিলেন। অভিনেত্রী সেখানে বলেন, ‘এখন আমি বলতে পারব, একবার তার (গীতাঞ্জলি) দেখা পেয়েছিলাম।’ বছরখানেক আগে টেড টকের এক পর্বে উপস্থাপক ছিলেন শাহরুখ খান, অতিথি বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিল গীতাঞ্জলি। শাহরুখ সেদিন বলেছিলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ তোমার হাতে নিরাপদ।’
গার্ডিয়ানে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, পাঁচ হাজারের বেশি আমেরিকানের মধ্য থেকে বিজ্ঞান ও শিল্পসহ নানাক্ষেত্রে অবদানের ভিত্তিতে ৮ থেকে ১৬ বছর বয়সী পাঁচ শিশুকে চূড়ান্তভাবে এর জন্য বাছাই করা হয়।গীতাঞ্জলি উদ্ভাবিত নতুন প্রযুক্তির মধ্যে দূষিত পানি শনাক্ত করতে পারে এমন প্রযুক্তি ছাড়াও সাইবার বুলিং শনাক্ত করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে ব্যবহার করে এমন একটি অ্যাপ এবং ক্রোম এক্সটেনশানও রয়েছে।
আরো পড়ুন: উড়োজাহাজ উড়িয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিল সাত বছরের শিশু
টাইম সাময়িকীর আগেই বেশ কিছু স্বীকৃতি পেয়েছে এই কিশোরী। কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের ডেনভারের ১৫ বছরের বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবক গীতাঞ্জলি দ্রুত ও কম খরচে সীসা-দূষিত পানি শনাক্তের যন্ত্র আবিষ্কার করে ১১ বছর বয়সেই ‘আমেরিকার শীর্ষ তরুণ বিজ্ঞানীর’ খেতাব জিতেছিল। ২০১৯ সালে ফোর্বস সাময়িকীর ‘ত্রিশের নিচে ত্রিশ’ তালিকায় জায়গা করে নেয়।
তারও আগে ২০১৭ সালে কেবল ১২ বছর বয়সে যুক্তরাষ্ট্রের সেরা তরুণ বিজ্ঞানী নির্বাচিত হয়েছিল। সেবার পানিতে সিসা শনাক্তের দ্রুত এবং সুলভ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছিল গীতাঞ্জলি। সাইবার বুলিং রোধে সম্প্রতি তৈরি করেছে ‘কাইন্ডলি’নামের সেবা (অ্যাপ ও ক্রোম এক্সটেনশন)। অনলাইনে কিছু পোস্ট করার আগে তাতে খারাপ কিছু আছে কি না, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে ব্যবহারকারীকে সতর্ক করে দেয় সেটি। এত সব কাজের কারণেই ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী পাঁচ হাজার সম্ভাবনাময় শিশু-কিশোরের মধ্য থেকে গীতাঞ্জলিকে নির্বাচিত করেছে টাইম সাময়িকী।