ঢাকা,  মঙ্গলবার   ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

[ ফিচার ]

মাটি ছাড়াই শাক-সবজি বাড়বে পানিতে ভেসে

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১২:৩২, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০
মাটি ছাড়াই শাক-সবজি বাড়বে পানিতে ভেসে
ছবি: মাটি ছাড়াই শাকসবজির চাষ

অভিনব এক উপায়ে চলছে শাকসবজির চাষাবাদ। অনেকটা অবিশ্বাস্যও বটে। সবারই জানা মাটি ছাড়া উদ্ভিদ জন্মায় না। তবে নতুন এক পদ্ধতিতে মাটি ছাড়াই চলছে চাষাবাদ। শুধু পানিতে ভেসেই তড়তড়িয়ে বেড়ে উঠছে শাক-সবজি। 

গ্রিন সেভার্সের অফিসের ছাদে মাটি ছাড়াই চলছে চাষাবাদ। গ্রিন সেভার্স একটি পরিবেশবান্ধব সামাজিক সংগঠন। পানিও খুব কম লাগে। একবার দিলেই মাস চলে যায়। 

গ্রিন সেভার্স সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আহসান রনি বলেন, বাংলাদেশে যেহেতু আমরা সুপেয় পানির অভাব বোধ করছি বা এই এই অভাব বোধ করছি যে মাটি কমে যাচ্ছে। সেই তাড়না থেকেই মূলত হাইড্রোপনিক পদ্ধতিটি আমরা বাংলাদেশে জনপ্রিয় করার চেষ্টা চালাচ্ছি। 

আহসান রনির হাতে সবজির চারাপাশাপাশি শহরের ছাদে গাছ লাগানোর জায়গা কম। বর্তমানে সবাই এপার্টমেন্ট কালচারে উন্নতি ঘটছে। ফলে সবার অবশ্য ছাদে প্রবেশের সুযোগ থাকে না। সেই জায়গা থেকেই যাতে মানুষ এক চিলতে জায়গাতে চাষাবাদ করতে পারে এজন্যই এই নয়া পন্থা।

বারান্দা বা ঘরের যে অংশে আলো-বাতাস কম সেখানেও কিন্তু রোদ ছাড়াই হাইড্রোপনিক পদ্ধতি ব্যবহার করে চাষাবাদ করা সম্ভব। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এই পদ্ধতি ব্যবহার করে চাষাবাদ করা হচ্ছে। এটা এক ধরণের নিয়ন্ত্রিত চাষ পদ্ধতি। জায়গা লাগে খুবই কম। কারণ এতে শাক-সবজি বাড়ে উপরের দিকে। 

এ বিষয়ে আহসান রনি বলেন, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে লিফি ভেজিটেবল এবং জেনারেটিভ ক্রপস সবই মোটামুটি ভালো হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রেক্ষিতেও এই নতুন উপায়ে চাষাবাদ বেশ ভালো হচ্ছে। 

গ্রিন সেভার্সের অভিসের ছাদে হাইড্রোপনিক উপায়ে বাড়ছে শাকসবজিবিশেষ করে সবজি চাষের ক্ষেত্রে আমরা আশানুরূপ ফলন পাচ্ছি। এটা নিয়ে আমাদের এখনো বিস্তর গবেষণা চলছে। আমরা আশা করছি আরো অধিক সবজির চাষাবাদ আমরা এই উপায়ে করার চেষ্টা করব।

গ্রিন সেভার্স নামক সংস্থা থেকেই হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে চাষের বাক্স বা বেড কিনতে পারবেন। সঙ্গে চারা, বীজ ও চাষের পদ্ধতিও জানতে পারবেন। দামও খুব কম। আমরা ভালো সাড়া পাচ্ছি, শুরু করার পর আমরা বর্তমানে এটাকে বাণিজ্যিকভাবেও বাজারজাত করার চেষ্টা করছি।

প্রতিমাসে অন্তত ৪০-৫০ জন ক্লায়েন্ট যুক্ত হচ্ছেন আমাদের এই সরবাহ তালিকায়। আশা করি শীত মৌসুমে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ ব্যবস্থার আরো আশানুরূপ ফলন পাব।

বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানেই এই উপায়ে চাষাবাদ চলছেকারণ শীত মৌসুমটি হাইড্রোপনিক পদ্ধতির জন্য বিশেষভাবে কার্যকরী, গাছের জন্যও ভালো। সামনের মৌসুমে এই পদ্ধতির বিস্তার আরো বাড়বে বলে আশা রাখেন আহসান রনি।

এই পদ্ধতি কার্যকরী হলে বাংলাদেশে শাকসবজি উৎপাদনে নতুন দুয়ার খুলবে। মাটি ও পানির সাশ্রয় হবে। কেউ চাইলে তার বাগানটি নতুন বাসায় নিয়েও যেতে পারবেন।  

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা এস এম হারুনুর রশীদ বলেন, হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হচ্ছে। জনবহুল দেশে বাড়ির ছাদে কম জায়গার মধ্যে এই পদ্ধতি অনুসরণ করা যায়।

বর্তমানে এই চাষাবাদ পদ্ধতি ব্যাপক সাড়া পেয়েছেবাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো. গোলাম আজমের মতে, হাইড্রোপননিক্স পদ্ধতিতে মাটির বিভিন্ন উপাদান খনিজ, জৈব ইত্যাদি পানিতে মিশিয়ে তা পাত্রে রাখা হয়। এরপর সেখানে গাছের চারা পুঁতে দেয়া হয়। 

কর্কশিট দিয়ে আটকানো থাকে, যাতে হেলে না পড়ে। মোটরের মাধ্যমে পানি রিসাইকেল করা হয়। উপাদানগুলোও ঘুরতে থাকে। আর নারকেলের ছোবড়ার মধ্যে গুঁজে দেয়া চারায়ও মাটির উপাদানমিশ্রিত পানি দেয়া হয়।

পোকামাকড়ের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে জাল দিয়ে ঢেকে দেয়া যায় এই চাষের এলাকা। জাল থাকলে কীটনাশক দেয়া লাগে না। ঘরের বারান্দা, বসার ঘরে পানির বালতিতেও এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা যায়। 

লেটুস পাতা ২৬ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হয়। এছাড়া টমেটো, স্ট্রবেরি ও ক্যাপসিকাম দুই-আড়াই মাসের মধ্যে ফল দেয়। একই পদ্ধতিতে গোলাপ, ফুলকপি, করলা, ব্রোকলি, শসা, শিম ইত্যাদি চাষ করা যায়।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই এই উপায়ে বাড়ছে চাষাবাদতবে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ কিছুটা ব্যয়সাপেক্ষ বলে জানান প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, মাটির উপাদানগুলো কিনতে হয়। এছাড়া পাম্প কেনায় খরচ রয়েছে। তবু শহরের অনেক বাগানমালিক আমাদের কাছে এসে এই পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চায়। কারণ, শহরে জায়গা কম।

নগরের অনেক ছাদবাগানি হাইড্রোপনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। কেউ কেউ এরই মধ্যে শুরুও করেছেন। একই কাঠামোর মধ্যে দু-একটি তাক করেও এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করা যায়।

তবে সূর্যালোক লাগে। পলিথিন দিয়ে ঘেরা থাকলে পোকামাকড়ের সংক্রমণ থেকেও রক্ষা করা যায় বলে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা জানান।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএমএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!