ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ ফিচার ]

বিস্ময় অঞ্চলে যেভাবে পৃথিবীর বড় দেশ রাশিয়া

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ০০:৩৫, ২৮ আগস্ট ২০২০
বিস্ময় অঞ্চলে যেভাবে পৃথিবীর বড় দেশ রাশিয়া
ছবি : সংগৃহীত

পৃথিবী সম্পর্কে জানার শুরু আছে কিন্তু শেষ নেই। আর জানতে শুরু করলেই অবাক হতে হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শুধু আয়তন নিয়ে ভাবলেও বিস্ময়ের সীমা থাকে না। এই বিশ্বে একদিকে আছে রাশিয়ার মতো দেশ- যেখানে গোটা আমেরিকা এবং মেক্সিকো ঢুকে যেতে পারে অনায়েসে। রাশিয়া ১৭ মিলিয়ন স্কয়ার পৃথিবীর সব থেকে বড় দেশ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। 

সংখ্যা বাদে এটি কতটুকু বড় বলতে গেলে এটি ফ্রান্স থেকে ২৭ গুণ, জার্মানি থেকে ৪৭ গুণ এবং ভারত থেকে ৬ গুণ বড়! তবে রাশিয়ার এই ১৭ মিলিয়নের মধ্যে ১৩ মিলিয়নই সাইবেরিয়া। মূলত সাইবেরিয়ার কারণেই রাশিয়া এতো ভূখণ্ডের মালিক হয়েছে।

হাজার হাজার মাইল বিস্তৃত এই অঞ্চলটি পুরো রাশিয়ার প্রায় ৭৭ ভাগ জুড়ে রয়েছে। যদি সাইবেরিয়ার আয়তনকে একটি দেশ হিসেবে তুলনা করা হয়, তবে এর আয়তন প্রায় কানাডার কাছাকাছি। অর্থাৎ সাইবেরিয়া যদি কখনো নিজেকে রাশিয়ার থেকে আলাদা করতে চায় তবে এটি বিশ্বের বৃহত্তম দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম একটি হবে।

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার আকৃতি এত বড় হওয়ার কারণটি এর ইতিহাসেই পাওয়া যায়। ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোর মত, রাশিয়াও এক সময় অঞ্চলগত যুদ্ধের সম্মুখীন হয়েছে। ১৫শ এবং ১৬শ শতাব্দীতে রাশিয়া অনেকগুলো ছোট ছোট অঞ্চলে ভাগ হয়ে গেলে মোঙ্গলরা এবং অন্যান্য যাযাবররা সেখানে আধিপত্য বিস্তার করা শুরু করে। এটি ততক্ষণ পর্যন্ত চলতে থাকে যতক্ষণ না পর্যন্ত মস্কো তাদের সবাইকে হারিয়ে কিছু রুশ অঞ্চল দখল করে।

মস্কোর প্রিন্স "Ivan the Terrible" এর আয়তায়, রাশিয়ান কসাক সৈনিকরা (Cossacks) সাইবেরিয়া এবং ইউরাল পর্বতমালার অপর পারের জমি দখল করতে এসেছিল। আর এই ধরনের অঞ্চলগুলোই রাশিয়ার মোট অঞ্চলের ৭৭ ভাগ। বলতে গেলে এই সাইবেরিয়াই রাশিয়াকে ভৌগালিকভাবে পৃথিবীর সব থেকে বৃহত্তম দেশে পরিণত করেছে। পূর্বাংশের অঞ্চলগুলিতে বিজয় অর্জনে, মস্কো কোনো বড় সমস্যার মুখোমুখি হয়নি এবং ১৬৪৫ সালে রাশিয়ানরা প্রশান্ত মহাসাগরে এসে পৌঁছেছিল।

আন্তর্জাতিক ভৌগালিক ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির কলোসভ দুটি প্রধান দিক তুলে ধরেছেন, যার কারণে সাইবেরিয়া এবং সুদূর পূর্ব অঞ্চল প্রসারিত করার সময় কোনো প্রকার ঝামেলা হয়নি।

প্রথমত, এই বিস্তৃত এবং শীতল অঞ্চলগুলো খুব কম জনবহুল ছিল। কলোসভ বলেছিলেন, এখনকার জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ২ জন, এবং ১৭শ শতাব্দীতে এই সংখ্যা আরো কম ছিল। দ্বিতীয়ত, সাইবেরিয়ায় বেশিরভাগ উপজাতির জনগণের রাশিয়ায় যোগ দিতে দেশটির কোনো আপত্তি ছিল না।

বিশাল ভৌগলিক আকার সত্ত্বেও, জনসংখ্যা ১৮৬ মিলিয়ন মানুষ নিয়ে রাশিয়া বিশ্বে মাত্র অষ্টম স্থানে রয়েছে। এমনকি অবাক করার মত বিষয় হচ্ছে, এত ছোট আয়তন সত্ত্বেও, জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশ রাশিয়া থেকে এগিয়ে রয়েছে!

কলোসভ আরো বলেছিলেন, সাইবেরিয়া এবং সুদূর প্রাচ্যের বৃহৎ অংশগুলো, বিশেষত উত্তরে, বেশির ভাগ অঞ্চলই জনশূন্যই রয়েছে এবং সেখানে এটিকে কঠোর জলবায়ু দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে। যেখানে কিনা মানুষের পক্ষে জীবনযাপন করা পুরোপুরি চ্যালেঞ্জ স্বরূপ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!