ঢাকা,  সোমবার   ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩

[ প্রবাস জীবন ]

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বেসির ফেসবুক ‘পেজ ফলোয়িংয়ে’ বাংলাদেশ শীর্ষে

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮:৪০, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাম্বেসির ফেসবুক ‘পেজ ফলোয়িংয়ে’ বাংলাদেশ শীর্ষে
ক্রেডিট : ক্রিস্টেনসেনের নেয়া সেলফি ক্লিকটি ইউএস অ্যাম্বেসি ঢাকা‘র ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া

দেশ-বিদেশের চরম গরম আর অঘোষিত বিশ্বযুদ্ধের এই অস্থির মওসুমে চির বসন্তের জনপদ ক্যালিফোর্নিয়ার বুয়েনা পার্কের ল্যুক্সর ব্যানকুয়েট হলে গত বিষুদবারের (১৪ অক্টাবর, ২০২৬) সন্ধ্যাটি ছিল স্থানীয় বাঙালি কমিউনিটির জন্য আনন্দমুখর। বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত জনাব ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেনের সঙ্গে কিছু সময় আড্ডায় আলোচনায়  ভালোই কাটলো। 

অনুষ্ঠানের শুরুতেই জানিয়ে দেয়া হয়েছিল, বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। আলোচনা হয় বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ভালোমন্দ, এখানে পড়াশোনারত বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের সুযোগ সম্ভাবনা এবং আরো বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও টেকনিক্যালি স্কিল্ড ব্যক্তিদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পথ সুগম করার বিষয়ে।

এছাড়াও রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসা-বাণিজ্যের নয়া দ্বার উন্মোচন (বোয়িং, মেশিনারি, গম এমনকি আগামি রমজানে ক্যালিফোর্নিয়ার বিখ্যাত খেজুর রপ্তানির সুযোগ) বিষয়ে আলোচনা করেন। 

অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা লস অ্যাঞ্জেলেস বাংলাদেশ শেরিফ অ্যাডভাইজারি কাউন্সিল যার স্পন্সর ছিল আনন্দ মেলা, লস অ্যাঞ্জেলেস।

এক প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বলেন,  দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের সেতু গড়ে তুলতে আমাদের বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের তথা প্রবাসী বাংলাদেশীদের (ডায়াসপোরা) সহায়তা প্রয়োজন। জ্বালানি, খাদ্যশস্য এবং চিকিৎসা যন্ত্রপাতির বাণিজ্য বাড়ানোর অনেক সুযোগ রয়েছে। যেমন—বাংলাদেশের হাই-টেক চিকিৎসা যন্ত্রপাতির বেশিরভাগই আসে চীন থেকে, যা কয়েক মাসের মধ্যেই অকেজো হয়ে পড়ে। 

অথচ আপনি জানেন যুক্তরাষ্ট্রের যন্ত্রপাতির মান কেমন এবং এগুলো কতো দীর্ঘস্থায়ী হয়। কিন্তু বাংলাদেশের মন্ত্রণালয়গুলোর পুরনো নীতি বা নিয়মের কারণে এসব যন্ত্রপাতি কখনো বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে না।

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি পণ্যের প্রসার ও বিপণনে মার্কিন দূতাবাস সাহায্য করতে পারে কিন্তু তাতে মূল ভূমিকা রাখতে হবে এখানকার বাংলাদেশি দূতাবাসকে, কনস্যুলেটসমূহকে। তবে আপনারা যদি বাংলাদেশেও মার্কিন পণ্যের প্রসার চান, এখানকার বাংলাদেশি-আমেরিকানরা যদি রপ্তানি করতে চান, তাহলেও আপনাদের দূতাবাসকেই আগে এগিয়ে আসতে হবে।

"মিট অ্যান্ড গ্রিট উইথ ইউএস অ্যাম্বাসেডর টু বাংলাদেশ" নামক ওই আলোচনা-বৈঠক অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন বাংলাদেশি কমিউনিটি ফেডারেশন অব লস অ্যাঞ্জেলেসের (BUFLA)  সাবেক প্রেসিডেন্ট Zia Shawan।

সামাজিক মাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুকে সরব রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারে বাংলাদেশিদের গভীর মনোযোগ ও প্রতিভার প্রশংসা করে জানালেন, দুনিয়াজুরে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস সমূহের ফেসবুক পেজের মধ্যে বাংলাদেশে তাদের দূতাবাসের পেজটির ফলোয়ার সবচেয়ে বেশি (৭০ লাখের উপরে) যার ধারেকাছে অন্য কোনো দূতাবাস নেই। 

রাষ্ট্রদূত তার নানা কথার ভাঁজে আমাদের নিয়ে কিছু অনিবার্য নেতিবাচক সমালোচনা করলেও সামাজিক মাধ্যম এবং ইন্টারনেট ব্যবহারে বাংলাদেশিদের একাগ্রতা ও দক্ষতাকে ফলপ্রসূ ক্ষেত্রে কাজে লাগানোর দিকে ইঙ্গিত করেন।

যাহোক, বেশ লম্বা-চওঢ়া দেহাবয়বের ক্রিস্টেনসেন সাহেব দেখতে আলাভোলা মুখাবয়বের, তবে তাকে আমার যথেষ্ট মেধাবী, বুদ্ধিদীপ্ত আর চৌকষ মনে হয়েছে। আর হ্যাঁ, এযাবতকালের মধ্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ওয়াশিংটনের রাষ্ট্রদূতদের (মেরি অ্যান পিটার্স, প্যাট্রিসিয়া বুটেনিস, হ্যারি কে টমাস, মার্সা বার্নিকাট, ড্যান ডি মজিনা, পিটার হাস প্রমুখ) মধ্যে তাকেই আমার মনে হয়েছে সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী, ডমিনেটিং আর নিজের দায়িত্ব পালনে পরিতৃপ্ত এক কূটনীতিক। তবে কেউ কেউ মনে করতে পারেন, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রেক্ষাপটে এমনটাই হওয়ার কথা। এই বিষয় নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। 

প্রসঙ্গত, ওয়াশিংটনের ডাকে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন যেসময়টায় তার দেশে ঘুরে গেলেন তার কাছাকাছি বা একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সেনাপতি জেনারেল ওয়াকার উজ জামান, ড. ইউনুস যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে নিউ ইয়র্ক সফর করেন। একইসময়ে শহরটিতে বা এর চৌহদ্দিতে ছিলেন বা ঘুরঘুর করছিলেন হালের বাংলাদেশি ক্ষমতা আর রাজনীতির দেবতা, উপদেবতা, পাতিদেবতা (ডেমিগড)সহ অপরাপর কুশীলবরা। 

ক্রিস্টেনসেন সাহেবের সঙ্গে প্রশান্ত মহাসাগর পাড়ের ওই সাক্ষাৎ ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের অনুষ্ঠানটি চমৎকার ছিল, ইতিবাচক ছিল-- বন্ধুদের এটা জানিয়ে শেষ করছি।

[ক্রেডিট : ক্রিস্টেনসেনের নেয়া সেলফি ক্লিকটি ইউএস অ্যাম্বেসি ঢাকা‘র ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া]

ডেইলি-বাংলাদেশ/একেকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!