ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ প্রবাস জীবন ]

জাতিসংঘে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে মালয়েশিয়া

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:২৮, ৩১ মে ২০২৪
জাতিসংঘে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে মালয়েশিয়া
ফাইল ফটো

অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতারণামূলক নিয়োগের অভিযোগে গত ২৮ মার্চ জাতিসংঘের দেওয়া চিঠির জবাব দিয়েছে মালয়েশিয়া। এর মাধ্যমে দেশটির সরকার সে দেশে অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায়  প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

শুক্রবার দেশটির ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত মঙ্গলবার জেনেভায় জাতিসংঘে মালয়েশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি নাদজিরা ওসমান কর্তৃক মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশন দফতরের (ওএইচসিএইচআর) বিশেষ পদ্ধতি শাখার প্রধান বিয়াট্রিজ বালবিনের কাছে চিঠি হস্তান্তর করেন।

নাদজিরাহ বলেন, আমরা জাতিসংঘকে আশ্বস্ত করছি যে, মালয়েশিয়া অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় ও কল্যাণ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিশ্রুতির সঙ্গে একটি সম্পূরক নথি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা শোষণ ও মানব পাচারের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলোর রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।

Advertisement

গত মঙ্গলবার সংবাদ হয়েছিল, অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের দ্বারা বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকদের প্রতারণামূলক নিয়োগের অভিযোগ সম্পর্কিত জাতিসংঘের চিঠির জবাব সরকার এখনো দেয়নি।

এর আগে, ২৮ মার্চ জাতিসংঘ থেকে দেওয়া সেই চিঠিতে জাতিসংঘের চারজন বিশেষজ্ঞ উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়ায় কর্মসংস্থানের জন্য বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের ভুয়া কোম্পানিগুলোর প্রতারণামূলক অপকর্ম সম্পর্কে জাতিসংঘ উদ্বিগ্ন। তারা ঋণের বন্ধন, দুর্ব্যবহার এবং অভিবাসী শ্রমিকদের শোষণের মতো বিষয়গুলোকে তুলে ধরে, যার সবই আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত বাধ্যতামূলক শ্রম সূচকগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত।

তার প্রতিক্রিয়ায় নাদজিরাহ অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য সরকারের চলমান প্রচেষ্টার প্রমাণ হিসেবে প্রতারিত হওয়া ৭৩৩ জন বাংলাদেশি কর্মীকে ১ মিলিয়নেরও বেশি রিঙ্গিত বেতন শোধ করার তথ্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, ১৭ মে পর্যন্ত, ৭৩৩ ক্ষতিগ্রস্ত শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৬৯২ জনকে জোহর শ্রম বিভাগের মাধ্যমে নতুন নিয়োগকর্তার অধীনে নিয়োগ করা হয়েছে।  

নাদজিরাহ বলেন, জাতিসংঘে দাখিল করা পত্রে নিয়মিত কোম্পানি পরিদর্শন, শ্রম বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা নিয়োগকারীদের কালো তালিকাভুক্ত করা, নিয়োগকারী এজেন্সিগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করা এবং শ্রম বিভাগের অফিসে বা ওয়ার্কিং ফর ওয়ার্কার্স (ডব্লিউএফডব্লিউ) মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে করা অভিযোগের সমাধানসহ সরকারের নেয়া অন্যান্য পদক্ষেপের কথাও উল্লেখ করা হয়।

তিনি আরো যোগ করেন, শ্রম বিভাগ বিদেশি কর্মীদের উদ্ধার ও স্থানান্তর করার জন্যও উদ্যোগ নিয়েছে, যারা তাদের নিয়োগকর্তাদের দ্বারা যথাযথ চাকরি, বেতন বা পর্যাপ্ত বাসস্থান না পেয়ে বঞ্চিত ও শোষিত হয়েছে। ২০২৩ সালে শ্রম বিভাগ ১ হাজার৬৬৪ বিদেশি কর্মীকে নতুন নিয়োগকর্তাদের কাছে স্থানান্তরিত করেছে। এই বছরের এপ্রিল পর্যন্ত, ৯১০ জন বিদেশি কর্মীকে নতুন নিয়োগকর্তাদের কাছে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

নাদজিরা ওসমান উল্লেখ করেন, মালয়েশিয়া সরকার জাতিসংঘের দ্বারা ব্যাপকভাবে হাইলাইট করা সমস্যাগুলোর সমাধান করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!