ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ প্রবাস জীবন ]
দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যা

শঙ্কা কাটেনি বাফেলোতে, নির্ঘুম হাজারো প্রবাসী

প্রবাস জীবন ডেস্ক
প্রকাশিত: ২০:২৪, ৪ মে ২০২৪
শঙ্কা কাটেনি বাফেলোতে, নির্ঘুম হাজারো প্রবাসী
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের বাফেলোতে দুই বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় চারদিন আগে বন্দুকধারী গ্রেফতার হলেও এখনো হামলার আশঙ্কা কাটছে না প্রবাসী বাংলাদেশিদের। এলাকায় টহল বাড়ানোর জন্য প্রবাসীরা দাবি জানালেও তা বাস্তবায়ন করেননি পুলিশ। ফলে আতঙ্কিত অবস্থায় দিনযাপন করছেন হাজারো বাংলাদেশি।

জানা গেছে, গত ১০ বছরে নিউ ইয়র্ক সিটিসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে প্রায় অর্ধলক্ষাধিক বাংলাদেশি বাফেলোতে এসে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন।

এখানে কম মূল্যের বাড়ি কিনে মেরামতের পর সেসব বাড়ি ভাড়া দিয়ে ব্যবসা করছেন অনেকদিন ধরে। এর আগে কখনো এখানে বাংলাদেশিকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেনি। গত ২৭ এপ্রিল এক বন্দুকধারীর গুলিতে আবু সালেহ মোহাম্মদ ইউসুফ ও বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় কমিউনিটিতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই রাতে ঘুমাতে পারছেন না। সবসময় একটা ভয় কাজ করছে।

Advertisement

প্রবাসীরা জানান, এখানকার বাংলাদেশিদের বাড়িগুলোতে অধিকাংশ ভাড়াটে কৃষ্ণাঙ্গ সম্প্রদায়ের মানুষ। তারা মাসের পর মাস ভাড়া না দিয়ে মালিকদের নানা হুমকি প্রদর্শন করে। ভাড়া আদায়ের জন্য পুলিশের কাছে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায় না। আমারা সবকিছু সহ্য করে দিন কাটাচ্ছি। এসব নিয়ে কঠিন সময় পার করছে বাফেলোর প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

বাফেলোতে প্রচুর সংখ্যক বাংলাদেশি বসবাস করলেও এখানে নেই কোনো ঐক্যবদ্ধ কমিউনিটি। সবাই নেতা হতেই ব্যস্ত। কোনো অনুষ্ঠান হলে বক্তৃতা দেওয়া নিয়েই সবাই ব্যস্ত হয়ে পড়েন। তাই একটি ঐক্যবদ্ধ কমিউনিটি গড়ে তুলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগের আহ্বান জানান তারা।

গত ২৭ এপ্রিল বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত কুমিল্লার বাবুল মিয়া আগে সপরিবারে থাকতেন ম্যারিল্যান্ডে। সম্প্রতি তিনি বাফেলোতে বাড়ি কেনেন। আর সিলেটের কানাইঘাটের ইউসুফ গত ডিসেম্বরে স্ত্রী ও দুই মেয়েসহ বাফেলোতে আসেন স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য।

২৮ এপ্রিল ডেল ও’ কামিংস নামে ৩১ বছর বয়সী বন্দুকধারীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বাফেলো সিটি মেয়র বাইরেন ডাব্লিউ ব্রাউন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাফেলোর আইনশৃঙ্খলা সুরক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর। পুলিশ কমিশনার জোসেফ গ্রেমাগলিয়া জানান, আগের চেয়ে সেখানে পুলিশের টহল বাড়ানো হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জে কিন বলেন, ডেল ও’ কামিংসের বিরুদ্ধে বাফেলো ক্রিমিনাল কোর্টে বেশ কয়েকটি মামলা বিচারাধীন। তিনি গৃহহীন। তার নির্দিষ্ট কোনো ঠিকানা না থাকায় মামলাগুলোর একটিতেও হাজিরা দেননি। হত্যাকাণ্ডের প্রায় একই সময়ে ঘটনাস্থলের আশেপাশের সিসিটিভি ভিডিওতে তাকে দেখা গেছে।

ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি বলেন, অস্ত্রটি বেআইনিভাবে তার দখলে ছিল। দুই বাংলাদেশিকে হত্যায় সেটি ব্যবহার করা হয়েছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। বেআইনি অস্ত্র বহনের মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে ডেল কামিংসের সর্বোচ্চ ১৫ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। আর জোড়া খুনের ঘটনার দোষী সাব্যস্ত হলে আজীবন তাকে কারাগারে থাকতে হতে পারে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!