তার বিরুদ্ধে ড্রাগ সাপ্লাইয়ের অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ। মিহির শুধু অভিনেত্রী হুমায়রা হিমুই নয়, ২০১৮ সালের মে মাসে অভিনেত্রী তাজিন আহমেদের মৃত্যুর সময়ও পাশে ছিলেন।
এবার মিহির লাইভে এসে হিমুর মৃত্যুর ঘটনা ও তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো নিয়ে মুখ খুললেন। জানালেন, হিমুর মৃত্যুর পর গত তিনদিন যাবত ছিলেন পুলিশ হেফাজতে।
.png)
আজ (৫ নভেম্বর) ফেসবুক লাইভে মিহির বলেন, ফেসবুকে আমাকে নিয়ে ঝড় তুলছেন কিছু মানুষ। ‘আমি হেন, আমি তেন, আমি ড্রাগ ডিলার। এরপরও পুলিশ আমাকে রিমান্ডে নেয় না কেন?’ আপনারা যে এটা লিখেছেন আপনারা কি জানেন, আমি এই তিনদিন কোথায় ছিলাম? আমি হিমুকে বাসা থেকে হাসপাতালে নিয়ে গেছি, যখন ডাক্তার ঘোষণা দিয়েছে যে হিমু মৃত; সঙ্গে সঙ্গে হিমুর বয়ফ্রেন্ড দুটি মোবাইল নিয়ে পালিয়ে গেছেন।
অভিযোগকারীদেরকে নিয়ে বলেন, ‘আমার ভেতর ভয় না আমার ভেতরে ঘেন্না হচ্ছে। আপনাদের জন্য মায়া হচ্ছে। আপনারা এত নেগেটিভ! হেল্প করতে পারেন না। পাঁচ বছর হলো। আমি এত দিন কাউরে দেখিনি। হিমুর মা মারা গেছেন। সে একা একা থাকত। না খেয়ে রুমের ভেতরে কান্নাকাটি করত। আমার এক ছোট ভাইকে ফোন করে টাকা পাঠিয়ে খাবার কিনে দিয়েছি। তার (হিমু) জ্বর। বিছানাতে পড়ে থাকত। কাউরে তো দেখিনি, তার খেয়াল করতে, পাশে দাঁড়াতে। মরার পর বিভিন্ন কিছু করবেন। জীবিত থাকতে তো করেননি।’
তাজিন আহমেদের মৃত্যু প্রসঙ্গে মিহিরের ভাষ্য, ‘তাজিন আপা মরছে আমি ছিলাম, হিমু মরছে আমি ছিলাম; এ বিষয়টি আপনাদের ভাবিয়ে তুলছে! এই পাঁচ বছরের ব্যবধানে দু’জন মানুষ মরছে আমি ছিলাম। এরা আমার নিকটাত্মীয় ছিল, ফ্যামিলি মেম্বারের মতো। তাজিন আপা আমাকে বলত মুন্নার সঙ্গে আমার যখন বিয়ে হইছে তোর মতন ছেলে হইত আমার। তাজিন আপা আমাকে নিজের ছেলের মতো সম্বোধন করতো। তাজিন আপার বাসায় ছিলাম বলে আমি আপাকে নিয়ে হাসপাতালে গেছি। চিকিৎসা করাইছি। চিকিৎসা করতে গিয়ে উনি তিন-চার ঘণ্টা, পাঁচ ঘণ্টা পরে মারা গেছেন। আর না হলে তো তাজিন আপা স্ট্রোক করে বাসায় মরে পড়ে থাকত। সাত দিন ধরে দরজা বন্ধ থাকত পরে লাশ বাহির করতে হইতো। আপনারা খবর পাইতেন। আমি ছিলাম বলে এরকম কিছু হয়নি। এটা কেউ বলে না যে, তুই ছিলি বলে আমরা তাজিন আপারে ফ্রেশ তরতাজা দাফন করতে পারছি।’
হিমু মৃত্যু নিয়ে মিহির বলেন, ‘আমি না থাকলে হিমুর বয়ফ্রেন্ড তাকে ঘরের ভেতর ঝুলাইয়া রাইখা দরজা বন্ধ কইরা পালাইয়া যাইত। এটা কি হতো না? এটা তো কেউ বলেন না যে, তুই ছিলি বলে হিমুকে আমরা বের করে আনতে পারছি বা ওকে ধরতে পারছে পুলিশ। হিমুর বয়ফ্রেন্ড ইন্ডিয়ান। না হলে তো ওই ছেলে হিমুকে রেখে কবে পালাইয়া যাইত। ঠাণ্ডা মাথায় পলাইয়া যাইত। আমি ভালো করছি এটা কেউ বলে না। সব খারাপ করছি, আমি রাবণ। আমি করছি না ওই ছেলে করছে সেটা তো ওই ছেলে নিজেই স্বীকার করছে। তারপরও কেন আপনাদের ভেতর এতো দ্বিধাদ্বন্দ্ব যে মিহির ছিল। মিহির ছিল বলেই তো ফ্রেশ হিমুরে বের করে হাসপাতালে নিয়ে আসছে। আমি উপকার করছি এই জন্য আমাকে সকলে মিলে ফাঁসি দিয়ে দেন।’
হিমুর মৃত্যুর সময়ের ঘটনা বলতে গিয়ে মিহির দাবি করেন, ‘আমি পাশের রুমে ঘুমচ্ছিলাম। তার বয়ফ্রেন্ড যখন ডাকল; গিয়ে দেখি এ অবস্থা। আমি তাকে বলেছিলাম, আপনি রুমে থাকতে এ ঘটনা ঘটবে কীভাবে? তিনি বলেছেন, তিনি নাকি বাথরুমে ছিলেন। এটা কীভাবে হয়?’
মিহির মনে করেন ঘটনার ভেতরে ঘটনা থাকতে পারে। সে বিষয়ে ইঙ্গিত দিয়ে হিমু প্রসঙ্গে তার মূল্যায়ন, ‘আমরা মনে হয়, সে (হিমু) ফাঁসি দিতে পারে না। এটা হতে পারে না। সে এতো স্ট্রং। তার সঙ্গে কিছু একটা হয়েছে।’
শেষের দিকে এই মেকআপম্যান বলেন, ‘পুরো মিডিয়া উঠে পড়ে লেগেছে। আমি মানসিক যন্ত্রণায় আছি। ডিপ্রেশনে আছি। আমি জানি না আমি কী করবো। আমার যদি কিছু হই, জেনে রাখবেন, এর জন্য আমার মিডিয়ার মানুষেরা দায়ী থাকবে। আর আমাকে যারা বুঝে থাকেন, বিন্দুমাত্র ভালোবেসে থাকেন, তাহলে তাঁদের সঙ্গে বোঝাপড়াটা করে নেবেন। আমর ভেতরে কতটা কষ্ট হচ্ছে, ঝড় হচ্ছে। আমার ভেতরে বারুদের মতো জ্বলছে। আমি ঘুমাতে পারছি না। হিমুকে আমি বোন ডেকেছি।’
প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার (২ নভেম্বর) প্রয়াত হন হুমায়রা হিমু। এই অকাল মৃত্যু-আত্মহত্যা নাকি হত্যা সেই প্রশ্ন তোলেন নেটিজেনরা। এমনকি হাসপাতালে হিমুর লাশ ফেলে পালিয়ে যায় তার প্রেমিক জিয়াউদ্দিন রুফি। পরে তিনি র্যাবের হাতে গ্রেফতার হন। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় অভিনেত্রীর পাশে ছিলেন মিহিরও। তাঁকে ঘিরেও নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলেছে।