মাউশির ৬১০ পদের ফল প্রকাশ চান চাকরিপ্রার্থীরা
২০২০ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় অবশিষ্ট চার ক্যাটাগরির ৬১০ পদের চূড়ান্ত ফল দ্রুত প্রকাশের দাবিতে দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) চূড়ান্ত ফলাফল প্রত্যাশী ঐক্য পরিষদের নেতাকর্মী ও প্রার্থীরা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে এসব স্মারকলিপি দেন।
.png)
রংপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন ঐক্য পরিষদের সভাপতি মো. জোবায়ের আহমেদ। পিরোজপুরে সংগঠনের সদস্যসচিব জাকারিয়া এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জে মুখপাত্র লিটন কুমার বিশ্বাস ও হাজেরা খাতুন স্মারকলিপি দেন।
এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন জেলার প্রতিনিধিরা জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে একই দাবিতে স্মারকলিপি দেন।
স্মারকলিপিতে ২০২০ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় থাকা অবশিষ্ট চার ক্যাটাগরির ৬১০ পদের চূড়ান্ত ফল দ্রুত প্রকাশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, ওই নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে ২৮টি ক্যাটাগরিতে মোট ৪ হাজার ৩২টি পদ ছিল। এর মধ্যে ২৪টি ক্যাটাগরির ৩ হাজার ৪২২ পদের নিয়োগ কার্যক্রম শেষ হয়েছে। তবে বাকি চার ক্যাটাগরির ৬১০ পদের চূড়ান্ত ফল এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে ফলাফলের অপেক্ষায় থাকায় অনেক প্রার্থীর চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা পেরিয়ে গেছে বলে দাবি করেন তারা। এতে তারা হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন।
চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দাবিতে এর আগে ঢাকায় মাউশির প্রধান কার্যালয়ের সামনে একাধিকবার আন্দোলন, অবস্থান ও মানববন্ধন করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা। ২০২৫ সালের ১৭ থেকে ১৯ জুন পর্যন্ত তারা আমরণ অনশনও পালন করেন। আন্দোলনের সময় লাঠিচার্জের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেন তারা। পরে ২৯ জুন সংবাদ সম্মেলনে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা ও নিজেদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন।
প্রার্থীদের ভাষ্য, নিয়োগসংক্রান্ত কোটা জটিলতা ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর নিরসন হয়। এরপর ২০২৫ সালের ২১ এপ্রিল বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার পর ২৩ এপ্রিল মাউশির মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারীর মাধ্যমে সাত দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে সেই আশ্বাস বাস্তবায়িত হয়নি বলে দাবি তাদের।
ঐক্য পরিষদের মুখপাত্র লিটন কুমার বিশ্বাস বলেন, চলতি বছরে শিক্ষা সচিব তাদের জানিয়েছেন, মাউশির মহাপরিচালককে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এতে প্রার্থীদের মধ্যে আশার সৃষ্টি হলেও এখনো ফল প্রকাশ না হওয়ায় তারা উদ্বিগ্ন ও হতাশ।
এর আগে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও স্মারকলিপি দেন ঐক্য পরিষদের প্রতিনিধিরা। গত ১৩ সেপ্টেম্বর রংপুরে মাউশির আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে শান্তিপূর্ণ অবস্থান ও মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন তারা।
চাকরিপ্রার্থীদের দাবি, দীর্ঘদিন নিয়োগপ্রক্রিয়া আটকে থাকায় তারা আর্থিক ও সামাজিক সংকটে পড়েছেন। অনেকের চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমাও শেষ হয়ে গেছে। কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা বজায় রেখে অবশিষ্ট ৬১০ পদের চূড়ান্ত ফল দ্রুত প্রকাশ চান তারা।