ঢাকা,  সোমবার   ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

তরুণ জনগোষ্ঠীই বাংলাদেশের বড় সম্পদ: শিক্ষামন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৩:৫১, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তরুণ জনগোষ্ঠীই বাংলাদেশের বড় সম্পদ: শিক্ষামন্ত্রী
প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তরে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চায় সরকার। এ ক্ষেত্রে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্প খাতের সংযোগ, প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতা উন্নয়ন এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে দ্বিতীয় চায়না-বাংলাদেশ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিনিময় গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর চায়না স্টাডিজ ও সাংহাই ইনস্টিটিউটস ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের যৌথ আয়োজনে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

Advertisement

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একসময় চীনও বিপুল জনসংখ্যার দেশ ছিল। পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশটি সেই জনসংখ্যাকে জাতীয় সম্পদে পরিণত করেছে এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। বাংলাদেশেরও জনসংখ্যাকে বোঝা হিসেবে না দেখে সম্পদে পরিণত করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি মানবসম্পদ। দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ কর্মক্ষম যুবসমাজের অন্তর্ভুক্ত। ১৮ কোটি মানুষের এই জনমিতিক সুবিধা দেশের জন্য বড় সুযোগ। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশে যখন জনসংখ্যা কমছে এবং বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, তখন বাংলাদেশে রয়েছে তরুণ ও কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী।

এই জনমিতিক সুবিধা কাজে লাগানোর এখনই সময় উল্লেখ করে এহছানুল হক মিলন বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদ সীমিত হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে জনসংখ্যাই দেশের প্রধান সম্পদ হয়ে উঠতে পারে।

সম্প্রতি চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রযুক্তির ব্যবহার করে দেশটি কীভাবে বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করেছে, তা তিনি সরেজমিনে দেখেছেন। বিশেষ করে শিল্প খাত ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে চীনের সমন্বয় বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা হতে পারে।

কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে এ খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে রেমিট্যান্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাই আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের উপযোগী দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রযুক্তিগত ও কারিগরি শিক্ষার মানোন্নয়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

এ লক্ষ্যে বিভিন্ন সমঝোতা স্মারক সইয়ের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ পর্যায়ক্রমে বাড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।

মানবসম্পদের পাশাপাশি সমুদ্র অর্থনীতিকেও বাংলাদেশের বড় সম্ভাবনার ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেন এহছানুল হক মিলন। তিনি জানান, ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও চীনের যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ২০০ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন রয়েছে। এক লাখ বর্গকিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত এই সমুদ্র এলাকায় বিপুল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। এ বিষয়ে চীনের গবেষক, বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষাবিদরাও কাজ করছেন। ফলে সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে শিক্ষা ও গবেষণায় দুই দেশের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ব্লু ইকোনমি ও সার্কুলার ইকোনমিকে কেন্দ্র করে বিশেষায়িত গবেষণায় গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। সমুদ্রসম্পদের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার পরিধি বাড়ানো প্রয়োজন।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরে এগিয়ে চলছে। এ সম্পর্কের ভিত্তিতে শিক্ষা, প্রযুক্তি, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা আরও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও চীনের প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষাবিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এম ইউ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!