জানা গেছে, ল্যাবের সরঞ্জামগুলো প্রায় নষ্ট হয়ে আছে। যা শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো কাজে আসছে না। ফলে শিক্ষার্থীরা আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে কম্পিউটার সংশ্লিষ্ট অনেক কোর্স ব্যবহারিক জ্ঞান ছাড়াই শেষ করতে বাধ্য হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজনেস অনুষদ সূত্রে, ২০১২-১৪ সালে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের অর্থায়নে উচ্চশিক্ষার মান উন্নয়ন প্রকল্পের সংক্ষেপে এইচখিউইপির আওতায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের মাধ্যমে বেরোবির বিজনেস অনুষদকে কম্পিউটার ল্যাব স্থাপনের জন্য ৭৫ লাখ টাকা দেওয়া হয়।
.png)
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন বিজনেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক মতিউর রহমানের হাত ধরে এই কম্পিউটার ল্যাবটি কার্যক্রম শুরু করা হয়। তখন ল্যাবটি দেখার জন্য আলাদা করে জনবল রাখা হয়েছিল। কিন্তু ২০১৯ সালের পরবর্তী সময়ে কম্পিউটার ল্যাবের জন্য আলাদা করে জনবল রাখা হয়নি। পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় কম্পিউটার ল্যাবটির জন্য আলাদা লোক নিয়োগ হয়নি। এভাবেই দিন দিন অকেজো হতে থাকে কম্পিউটারের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে আরো জানা যায়, ২০২০ সালে কোভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব শুরু হলে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো সরকারি নির্দেশে বন্ধের ঘোষণা আসে। এর প্রভাব পড়ে বিজনেস অনুষদের কম্পিউটার ল্যাবে। কোভিড চলাকালে এক থেকে দেড় বছর কম্পিউটারগুলো অন করা যায়নি। ফলে প্রতিটি কম্পিউটারে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের শিক্ষার্থী আলবীর বলেন, ‘বর্তমানে আমাদের কয়েকটি ব্যাচ চলমান, আমরা কোনো কম্পিউটার ল্যাবের সুবিধা পাচ্ছি না। আমাদের বিভাগের পড়াশোনা প্রায় বাস্তবধর্মীয়, কিন্তু ল্যাব না থাকায় বাস্তবিক যে জ্ঞান সেটি আমরা আহরণ করতে পারছি না। শুধু খাতাকলমে সীমাবদ্ধ থেকে পড়াশোনা শেষ করছি। যার ফলে চাকরির বাজারে অভিজ্ঞতার বিচারে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের থেকে আমরা অনেক পিছিয়ে থাকছি।’
কম্পিউটার ল্যাবটির বিষয়ে জানতে চাইলে তৎকালীন বিজনেস অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মতিউর রহমান বলেন, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্প যার নাম ছিল হেকেপ। সেটির মাধ্যমে আমাদের ৭৫ লাখ টাকা দেয়। পরে আমার নেতৃত্বেই ল্যাবটি স্থাপন করা হয়। আমি তখন প্রজেক্টটির এইচপিএম ছিলাম। ঠিকঠাক চলছিল, কিন্তু আমি যখন ডিন ছাড়লাম এখান থেকে জনবলগুলো আস্তে আস্তে বিভিন্ন জায়গায় পদায়ন করা হয়। পরবর্তীতে ল্যাবটি আনইউজ থেকে গেল। এরপর করোনার মধ্যে গোটা বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় কম্পিউটারের বিভিন্ন জিনিসপত্র দীর্ঘদিন অকেজো থাকে।
মতিউর রহমান ল্যাবটি সম্পর্কে আরো বলেন, ১০ বছর পর আবার ডিনের দায়িত্ব পেলে কয়েকবার মৌখিকভাবে এবং চিঠিও দিয়েছি। কিন্তু পরিতাপের বিষয় যে ল্যাবটি ঐভাবেই থাকে। কমিটি করা বা বিগত প্রশাসন হয়তো দেখছে কিন্তু কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
ল্যাবটি শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে জানতে চাইলে বিজনেস অনুষদের বর্তমান ডিন অধ্যাপক ফেরদৌস রহমান বলেন, এখন শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করতে পারছি না। কারণ কিছু কম্পিউটারের যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়েছে। আমি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ল্যাবটির বিষয়ে একটি চিঠি দিয়েছি।
ল্যাব সম্পর্কে ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. নুর আলম সিদ্দিক বলেন, ল্যাবটি দীর্ঘদিন পর্যন্ত ব্যবহার না করায় ল্যাবটি বর্তমানে অকেজো। এতে করে শিক্ষার্থীরা প্রাকটিকাল জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আমরা বিগত উপাচার্য অধ্যাপক ড. হাসিবুর রশীদ স্যারকে ল্যাবটি সংস্কারের জন্য অনুরোধ করেছিলাম। তিনি আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে ওটা ওভাবেই থেকে যায়।
বেরোবি নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার বেলাল বলেন, কম্পিউটার ল্যাব রিপেয়ার করার জন্য আমাদের কাছে একটা চিঠি আসে। কম্পিউটার ল্যাব মেরামতের জন্য আমরা ৪ লাখ ১৭ হাজার ১৪০ টাকার একটা একটা চিঠি রেজিস্ট্রারকে দিয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হারুন-অর রশীদ বলেন, আমার কাছে কম্পিউটার ল্যাব সম্পর্কিত একটি চিঠি এসেছে সেটি প্রক্রিয়াধীন আসে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী বলেন, কম্পিউটার ল্যাবটির বিষয়ে যথাযথভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ ও লজিস্টিক সাপোর্ট দেওয়া হবে। এ বিষয়ে আমরা আলোচনা করেছি এবং যেগুলোতে ল্যাব নেই সামনে সেগুলোতেও ল্যাব দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।