সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমতলা চত্বরে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং নানা রঙের পিঠার বাহারি আয়োজন পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।
উৎসবে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা তাদের শৈল্পিক দক্ষতা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে পিঠাগুলোর উপস্থাপনায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেন। পিঠার টেবিলে দেখা যায় গ্রামীণ ঐতিহ্যের চিরচেনা সব পিঠার নাম—পাটিসাপটা, ভাপা, চিতই, নারকেল পুলি, ফুলঝুরি ও দুধ চিতই। বিশেষ আকর্ষণ ছিল নতুন ধানের তৈরি সুস্বাদু মালপোয়া। “Signature Item of Binni - পাটিসাপটা” ছিল উৎসবের সবচেয়ে জনপ্রিয় আইটেম।
.png)
গ্রামীণ এগ্রোহাবের সদস্যরা জানান, এই উৎসবের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা। আধুনিক জীবনে যান্ত্রিকতার চাপে হারিয়ে যেতে বসা এসব পিঠার সংস্কৃতি আবারও তরুণদের মাঝে প্রাণসঞ্চার করবে।
এক শিক্ষার্থী উচ্ছ্বাস নিয়ে বলেন, শহুরে জীবনে আমরা এমন পিঠার স্বাদ পাই না। এই উৎসব আমাদের শৈশবের গ্রামের সেই আনন্দময় দিনগুলোতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। পিঠার স্বাদ আর পরিবেশ যেন সত্যিই একটি গ্রামীণ মেলার আমেজ এনে দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরাই নিজের হাতে পিঠা তৈরি করে উৎসবে অংশ নেন। আয়োজনে পিঠা বানানোর প্রতিযোগিতা ছিল বিশেষ আকর্ষণ। আয়োজকদের মতে, প্রতিযোগিতায় শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, উপস্থাপনা এবং স্বাদ বিচার করে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা হবে। পুরো আয়োজন ছিল শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অতিথিদের মিলনমেলায় পরিণত—একসাথে পিঠা খাওয়া, গল্প করা আর দেশের ঐতিহ্যকে উদযাপন করা।
পিঠা উৎসবে আসা একজন দর্শনার্থী বলেন, গ্রামীণ সংস্কৃতি রক্ষার জন্য এমন উদ্যোগ প্রশংসার দাবিদার। আমাদের নতুন প্রজন্মের উচিত দেশীয় ঐতিহ্যের প্রতি আরো বেশি মনোযোগী হওয়া। এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে ভালোবাসা সৃষ্টি করবে।
বাকৃবির আমতলা চত্বরে এই আয়োজন যেন প্রকৃতি ও সংস্কৃতির এক নতুন রূপে ধরা দেয়। শীতের বিকেলের সোনালি রোদ, গাছের সবুজ ছায়া আর পিঠার ঘ্রাণে উৎসব হয়ে উঠেছিল প্রাণচাঞ্চল্যে ভরপুর। উৎসবে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মচারীরা একসাথে অংশগ্রহণ করে এক আনন্দঘন মুহূর্তের সৃষ্টি করেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এমন আয়োজন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তাদের লক্ষ্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধা এবং ভালোবাসা তৈরি করা।
শীতের পিঠা আর আনন্দের মেলবন্ধনে বাকৃবির এই পিঠা উৎসব হয়ে উঠেছিল এক অনন্য আয়োজন। পিঠার স্বাদ আর ঐতিহ্যের মাধুর্য যেন সবাইকে ঐক্যের বন্ধনে আবদ্ধ করেছিল। অতিথিদের প্রশংসা ও শিক্ষার্থীদের মুখের হাসি এই আয়োজনকে পরিণত করেছে একটি স্মরণীয় মুহূর্তে। শুধু উৎসবের আনন্দই নয়, এই আয়োজন দেশের সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের প্রতি নতুন প্রজন্মের ভালোবাসার বার্তা বহন করেছে। এই আয়োজনের মাধ্যমে বাকৃবি ক্যাম্পাসে শীতের সন্ধ্যায় প্রাণবন্ত মুহূর্ত আর গ্রামীণ ঐতিহ্যের ঐশ্বর্য মিশে গিয়েছিল এক অভূতপূর্ব আনন্দমেলায়।