ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

শেকৃবিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি এখন শূন্যের কোটায়

শাহেদ মাহমুদ, শেকৃবি
প্রকাশিত: ১১:৪৭, ১১ ডিসেম্বর ২০২৪
শেকৃবিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি এখন শূন্যের কোটায়
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

কৃষি বিষয়ে ডিগ্রি গ্রহণে আগ্রহী নেপাল, ভুটানসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশের শিক্ষার্থীরা। বাংলাদেশের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থীদের পছন্দের বিদ্যাপীঠ হয়ে উঠেছিল রাজধানী ঢাকায় অবস্থিত শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি)। ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে গড়ে প্রতি বছর ১১ জন বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে আসছিল, যা সামগ্রিকভাবে ৫০ জনের ওপরে। তবে ২০২০ সালের পরে থেকে আকস্মিকভাবে কমতে থাকে এই বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা। বর্তমানে এসে নেমেছে শূন্যের কোটায়। বিগত তিন বছরে ভর্তি হননি একজনও বিদেশি শিক্ষার্থী।

বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কয়েকটি সূত্রের মতে, বিগত সময়ে তৈরি হওয়া প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা এবং করোনাকালীন জটিলতাই বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে অনাগ্রহী হওয়ার মূল কারণ। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়টিতে তৈরি হওয়া সেশনজট, গবেষণার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধার অপ্রতুলতা এবং পর্যাপ্ত ব্যাবহারিক সুবিধা না থাকায় ভর্তির ক্ষেত্রে অগ্রাহ্য হারাচ্ছেন বিদেশি শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীদের মতে, ভর্তি প্রক্রিয়া বছরের শেষ ভাগে হওয়ায় অনেকটা সময় নষ্ট হয় শিক্ষার্থীদের। এর কারণেও অনেক বিদেশি শিক্ষার্থী আগ্রহ হারাচ্ছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, বিগত প্রশাসন বিদেশি শিক্ষার্থীদের প্রতি খুব বেশি মনোযোগী ছিলেন না এবং বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে তারা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেননি। করোনাকালীন সময়ে আটকা পরা নেপালী শিক্ষার্থীদের নিজ উদ্যোগে দেশে ফিরতে হয়েছিল। যা নেপালি শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।

Advertisement

অভিমত প্রকাশ করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির এএসভিএম অনুষদের পঞ্চম বর্ষে অধ্যায়নরত নেপালি শিক্ষার্থী মহেশ্বর ভগত মালী বলেন, আমাদের নেপালি শিক্ষার্থীদের অন্যতম আগ্রহের জায়গা জুড়ে কৃষি এবং কৃষি বিষয়ক পড়ালেখা। এর অন্যতম কারণ নেপালে কৃষির গুরুত্ব। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ও বেশ পরিচিত নেপালের শিক্ষার্থীদের কাছে। তবে বিগত কয়েক বছরের সেশনজট বিরূপ প্রভাব তৈরি করেছে ভর্তিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের ওপর। তাছাড়া ল্যাবের পর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা, গবেষণা কার্যক্রম আরো বৃদ্ধি হওয়া উচিত।

বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা আবাসন ব্যবস্থা কিংবা কোনো আবাসিক হলের নির্দিষ্ট ফ্লোর বরাদ্দ থাকা উচিত বলেও মনে করেন এই শিক্ষার্থী।

মূলত বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি কমা শুরু হয় মূলত ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষ থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্র থেকে জানা যায়, ২০১৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকে মোট বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন ৫২ জন। এদের সবাই ছিলেন কৃষি ও এএসভিএম অনুষদের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদেশি শিক্ষার্থীর তালিকা থেকে তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০১৬ সালে ভর্তি হয় ৯ জন, ২০১৭ সালে ১১ জন, ২০১৮ সালে ১৬ জন, ২০১৯ সালে ১৪ জন, ২০২০ সালে মাত্র দুইজন। এর পরবর্তী বছরগুলোতে ভর্তির সংখ্যা নেমে আসে শূন্যের কোটায়।

অ্যাকাডেমিক অ্যান্ড স্কলারশিপ বিভাগের সহকারী রেজিস্টার কৃষিবিদ হরি কমল দাশ বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ভালো দিক। ২০১৬ সাল থেকে বাইরের দেশের শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে আসলেও গত তিন বছরে বন্ধ হয়ে গেছে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়া যা আমাদের জন্য কিছুটা উদ্বেগের। তবে প্রশাসনিকভাবে আমরা মনোযোগী হলে পূর্বের থেকেও বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। 

প্রশাসনিকভাবে এরই মধ্যে এই বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আশা করছি, সামনের বছরগুলোতে আমরা বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির সংখ্যা বাড়বে।

বিশ্ববিদ্যালয়টিতে বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি কমায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন বর্তমান প্রশাসন। বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি বৃদ্ধিতে কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেন তারা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল লতিফ বলেন, বিদেশি শিক্ষার্থী ভর্তি কমেছে গত কয়েক বছরে। আমরা কারণগুলো পর্যবেক্ষণ করেছি। এরই মধ্যে সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পূর্বে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদনের মাধ্যমে আসতে হতো। এই নিয়মের পরিবর্তন করে ভর্তি প্রক্রিয়া কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। এখন সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদের মাধ্যমে তারা ভর্তি হতে পারবে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়নরত বিদেশি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে, তাদের সমস্যাগুলো শুনেছি। আশা করছি, সামনের দিনগুলোতে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: শেকৃবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!