রোববার বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদে বিভাগের এক কক্ষে ক্ষমা চান তারা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হল কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটি ও ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা।
এ বিষয়ে হল কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও লালন শাহ হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আকতার হোসেন বলেন, বিষয়টি বিভাগ থেকে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। পরে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের কাছে ক্ষমা চান।
.png)
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরাদের ভাষ্য, বিভাগের সভাপতি ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে সমঝোতার চেষ্টা করা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা তাদের অন্যায় স্বীকার করে ক্ষমা চান। পরে অভিযোগ তুলে নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। এদিন তদন্ত কমিটি অভিযুক্ত ও ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকেন। বিভাগে অপরাধ স্বীকার করলেও তদন্ত কমিটির কাছে অপরাধ স্বীকার করেননি অভিযুক্তরা।
এ ঘটনায় অভিযুক্তরা বলেন, তারা যতটুকু ভুল করেছে সে অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের কাছে ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়েছে। তবে যতটুকু অপরাধ করেছে তাদের ব্যাপারে অতিরিক্ত বলা হয়েছে।
এদিকে একই ঘটনায় ‘পর্ন তারকা সাজিয়ে র্যাগিংয়ের অভিযোগ’ থাকায় বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ফলে গত ২০ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহকে চিঠি দিয়ে প্রতিবেদন চেয়েছেন মন্ত্রণালয়টি।
আজ মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব শাহীনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত সেই চিঠি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। এতে বলা হয়, ইবিতে ছাত্রদের র্যাগিং করা ও ৫ শিক্ষার্থীকে পুলিশে সোপর্দের বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রেরণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) এইচ এম আলী হাসান বলেন, হল থেকে প্রতিবেদন আমার কাছে দিয়েছে। সেটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যতদ্রুত সম্ভব পাঠানো হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব শাহীনুল ইসলাম বলেন, এখনো প্রতিবেদন হাতে পাইনি। পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে আমরা ঘটনা অবগত হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছি।
উল্লেখ্য, গত ১৮ নভেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের লালন শাহ হলে মধ্যরাতে নবীনদের র্যাগিংয়ের অভিযোগ উঠে ৯ শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এর মধ্যে ৫ জন হলের শিক্ষার্থীদের কাছে হাতেনাতে ধরা পরে। পরে তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। ফলে এ ঘটনায় মামলা হলে ৫ শিক্ষার্থীকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন।
র্যাগিংয়ের ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন- বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সাব্বির হোসেন, শেহান শরীফ শেখ, শরিফুল ইসলাম লিমন, কান্ত বড়ুয়া, জিহাদ, শফিউল্লাহ, তরিকুল, মুকুল ও ল’ এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের সঞ্চয় বড়ুয়া।