ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

বাকৃবিতে হলের ফিস্টে আলোচিত আয়োজন

বাকৃবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:০৭, ২৩ নভেম্বর ২০২৪
বাকৃবিতে হলের ফিস্টে আলোচিত আয়োজন
বাকৃবির ঐতিহ্যবাহী ফজলুল হক হলে চলছে ফায়ারফর্গড ফিস্ট। ছবি:ডেইলি বাংলাদেশ

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ঐতিহ্যবাহী ফজলুল হক হলে চলছে উৎসবের এক আনন্দঘন পরিবেশ। হলের তিন দিনের ‘ফায়ারফর্গড ফিস্ট’ শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক উচ্ছ্বাস ও আনন্দের বন্যা বইয়ে দিয়েছে। এই উৎসবটি শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ভরে উঠেছে হলের প্রাঙ্গণ। এই আয়োজন আলোচিত হচ্ছে পুরো ময়মনসিংহ জুড়ে।

সরেজমিন দেখা যায়, হল ভবনগুলো সেজেছে রঙিন চিত্রকর্ম, আলোকসজ্জা এবং সৃজনশীলতায়। হলের পরিবেশ যেন এক নতুন রূপ পেয়েছে। এই মনোরম সাজসজ্জা শুধুমাত্র ফজলুল হক হলের বাসিন্দাদেরই নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থী এবং আশপাশের স্থানীয় মানুষজনকেও মুগ্ধ করছে। 

২১ নভেম্বর বৃহস্পতিবার বিকেলে শুরু হয়ে ৩ দিনের ফিস্ট শেষ হবে শনিবার (২৩ নভেম্বর)। প্রতি বছরের মতো এবারো এই আয়োজনটি সম্পূর্ণভাবে প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে সম্পন্ন হচ্ছে। তারা এই উৎসবের নাম দিয়েছেন ‘ফায়ারফর্গড ফিস্ট।

Advertisement

বাকৃবির ফায়ারফর্গড ফিস্ট। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফিস্টের প্রথম দিনটি ছিল প্রাণবন্ত। বর্ণাঢ্য র‌্যালি দিয়ে উৎসবের শুরু হয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাসের প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে। হল প্রাঙ্গণ সেজে ওঠে রঙিন আলপনা ও আলোকসজ্জায়, যা দেখতে ভিড় জমায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের শিক্ষার্থীরা। প্রথম দিনেই আয়োজন করা হয় একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্ট, যা নতুনদের পাশাপাশি সিনিয়রদের মধ্যেও ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।

শুক্রবারের কর্মসূচিতে ছিল আরো চমকপ্রদ আয়োজন। শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে ফ্ল্যাশমুভ অনুষ্ঠিত হয়, যা সবার মনোযোগ আকর্ষণ করে। পাশাপাশি শিক্ষকদের জন্য আয়োজন করা হয় একটি আন্তরিক অভ্যর্থনা। সন্ধ্যায় ভুড়িভোজে মেতে ওঠেন হলের শিক্ষার্থীরা। এই ভোজন শুধু খাবারের আয়োজন নয়, এটি ছিল হৃদ্যতা ও আত্মার বন্ধন আরও দৃঢ় করার একটি সেতুবন্ধন।

ফিস্টের শেষ দিনটি ছিল সবচেয়ে প্রাণবন্ত। রং খেলা এবং ‘যেমন খুশি তেমন নাচ’ আয়োজন করে শিক্ষার্থীরা উৎসবকে নিয়ে যায় ভিন্ন মাত্রায়। ট্রাক শোডাউন ও মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হবে তিন দিনের এই অসাধারণ উৎসব।

বাকৃবির ফায়ারফর্গড ফিস্ট। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী আল মাহমুদ বলেন, "বিশ্ববিদ্যালয়ের হল জীবনের অপরিচিত মানুষগুলোর সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলার অসাধারণ সুযোগ করে দেয় এই ফিস্ট। সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ক আরো মজবুত করার লক্ষ্যেই আমাদের এ আয়োজন। সবাই মিলে আনন্দ ভাগাভাগি করব, এটাই আমাদের মূল প্রত্যাশা।’

আলিফ খান নামের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘এই তিন দিন আমার জীবনের অন্যতম সেরা সময় হয়ে থাকবে। সবার সহযোগিতায় এমন একটি স্মরণীয় আয়োজন সম্ভব হয়েছে। এটি আমাদের স্মৃতির পাতায় চিরকাল অক্ষয় হয়ে থাকবে এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের মধুর মুহূর্তগুলোর কথা বারবার মনে করিয়ে দেবে।"

বাকৃবির ফায়ারফর্গড ফিস্ট। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদমান বলেন, "ছোট ভাইদের এমন উৎসাহ ও সাংস্কৃতিক চর্চা দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। তারা যেভাবে নিজেদের সৃজনশীলতা ও উদ্যম দিয়ে এই আয়োজন করেছে, তা প্রশংসার দাবিদার। ভবিষ্যতেও এমন সুন্দর ও প্রাণবন্ত আয়োজন দেখতে চাই। এটি শুধু একটি উৎসব নয়, বরং সবার মধ্যে আন্তরিকতা ও বন্ধনের মেলবন্ধন তৈরি করেছে, যা আমাদের হল জীবনের সম্পর্কগুলোকে আরও দৃঢ় করবে। এমন উদ্যম ভবিষ্যতেও আমাদের ঐতিহ্যকে সমৃদ্ধ করবে।"

শিক্ষার্থীরা বলছেন, ফজলুল হক হলের তিন দিনের ফিস্ট শুধু একটি উৎসব নয়; এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৌহার্দ্য, সহযোগিতা এবং মেলবন্ধনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই আয়োজন সিনিয়র-জুনিয়র সম্পর্ককে মজবুত করে। একসঙ্গে কাজ করা, আনন্দ ভাগাভাগি করা এবং স্মৃতির পাতায় স্থায়ী হয়ে থাকা এই ফিস্ট শিক্ষার্থীদের মনোজগতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এটি সম্পর্কের বন্ধন আরও দৃঢ় করে এবং শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে। এ ধরনের উৎসব কেবল শিক্ষাজীবনের মধুর স্মৃতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ভবিষ্যতের সম্পর্কগুলোকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করবে বলে আশা করা যায়। ভবিষ্যতে এমন আরো প্রাণবন্ত আয়োজনের প্রত্যাশায় শিক্ষার্থীরা এগিয়ে যাবে একসঙ্গে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: বাকৃবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!