ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

বেরোবি মসজিদের কাজে পাথরের বদলে খোয়া, শিক্ষার্থীদের সমালোচনা

ফারহান সাদিক সাজু, বেরোবি
প্রকাশিত: ১০:২৬, ১৭ নভেম্বর ২০২৪
বেরোবি মসজিদের কাজে পাথরের বদলে খোয়া, শিক্ষার্থীদের সমালোচনা
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ নির্মাণে পাথর দিয়ে ঢালাইয়ের কথা থাকলেও পাথরের বদলে ইটের খোয়ার ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানান, মসজিদ বিষয়ে দুর্নীতি করলে কোনো ছাড় হবে না।

সরেজমিন দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের দ্বিতীয় তলার ছাদ নির্মাণে পাথরের ব্যবহার করার কথা থাকলেও ইটের খোয়া দিয়ে ঢালাই করা হয়েছে। দ্বিতীয় তলার ঢালাইকৃত ছাদের বিভিন্ন অংশ দিয়ে টোপে টোপে পানি পড়তে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতরের সহকারী প্রকৌশল মো. শাহরিয়ার আকিফ বলেন, পাথরের পরিবর্তে খোয়ার ঢালাইয়ের অভিযোগ আমরা শুনেছি। কিন্তু, ঐ কাজের বিল এখনো দেওয়া হয়নি। বিল তো আমরা পাথরের দিব না, খোয়ার বিল দিব। তাছাড়া ভবনটি নিচ থেকে ওপর পর্যন্ত পুরোটা খোয়া দিয়ে করা। খোয়া দিয়ে উঠে আসা ভবনের ওপর পাথরের লোড চাপানোর কোনো মানে হয় না। যা আছে সেটা ম্যানেজ করে আমরা তখন খোয়া দিয়ে কাজ করি। 

Advertisement

তিনি আরো বলেন, ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছিল ২০১২ সালে। সেসময় শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের তত্ত্বাবধানে মসজিদটির কাজ হয়। তাদের ও তো ইঞ্জিনিয়ার ছিল তারা নিশ্চয়ই লোড অ্যানালাইসিস না করত নিশ্চয়ই ভবনটা করেনি। এই ব্যাখ্যাটা তারা বলতে পারবে। এই খোয়াটা আসলে আগের কাজের কম্বিনেশন। দু একটা সমস্যা আমরা শুনছি, আমরা যাব, দেখব এবং সমাধান করার চেষ্টা করব।

মসজিদের কাজের বিষয়ে ঠিকাদার রানা বলেন, ঢালাইয়ের পাথর ব্যবহার করা হয়নি। ফাউন্ডেশন খোয়া ছিল, তাই আমরা পাথর দিয়ে ঢালাইয়ের কথা থাকলেও আমরা খোয়া দিয়ে ঢালাই করি। আমরা ভালো মানের খোয়া ব্যবহার করি।

ভবন নির্মাণের সময়সীমার কথা বলা হলে তিনি বলেন, আমার সঠিক তারিখ মনে আসছে না। কাজের বিলের কথা জিজ্ঞেস করলে ঠিকাদার বলেন আমাকে ৪০ লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে, বাকি টাকা এখনো পাইনি।

ভবনের নির্মাণের কাজের ত্রুটির বিষয়ে বলেন, আমার জায়গা থেকে আমি চেষ্টা করছি ভালো করে করার। কিন্তু কাজের মিস্ত্রির অসচেতনতার কারণে ভবনে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে যা আমরা সমাধান করে দিব। একটা ভিমে সঠিকভাবে ব্রাইবেটর করা হয়নি যার কারণে উক্ত সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।

মসজিদ কমিটির নতুন সদস্য ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, আমি বিষয়টি শুনেছি, বাকিটা সরেজমিন গিয়ে দেখব। ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে আরো পরীক্ষা করব। মসজিদ বিষয়ে দুর্নীতি করলে কোনো ছাড় হবে না। এর আগেও মসজিদে একজন গম চুরি করেছিল, সে কারণে তার চাকরি চলে গেছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!