ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

হেমন্তের স্পর্শে পাবিপ্রবিতে শীতের আগমনি বার্তা

আলফি সানি, পাবিপ্রবি
প্রকাশিত: ১৬:২৯, ৩ নভেম্বর ২০২৪
হেমন্তের স্পর্শে পাবিপ্রবিতে শীতের আগমনি বার্তা
পাবিপ্রবি ক্যাম্পাস সকালের নতুন সাজ। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

"এমন দিনে তারে বলা যায়, এমন ঘনঘোর বরিষায়"

কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই পঙক্তির মতো, শীতের আগমনি বার্তায় পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) ক্যাম্পাস এক নতুন সাজে সেজেছে। হেমন্তের মৃদু কুয়াশা আর শিশিরে ভেজা চারপাশ দেখে মনে হয়, প্রকৃতি নিজেই যেন তার প্রেমময় আবেশে হৃদয় স্পর্শ করতে এসেছে। ভোরের আলো যখন কুয়াশা ভেদ করে সবুজ গাছপালায় পড়ে, তখন ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণায় এক অপরূপ সৌন্দর্য ছড়িয়ে পড়ে।

কার্তিকের শুরুতেই হেমন্ত যেন তার মৃদু স্পর্শে শীতের উপস্থিতি জানান দিচ্ছে। প্রকৃতির বুকজুড়ে ছড়িয়ে থাকে সাদা কুয়াশা ক্যাম্পাসের প্রতিটি কোণায় মায়া আর রহস্যের এক আবেশ তৈরি করেছে। আবাসিক হল, অ্যাকাডেমিক ভবন, কাফেটেরিয়া, মূল ফটক আর চারপাশের গাছপালা কুয়াশার আস্তরণে ঢেকে যায় প্রতিদিন সকালবেলা। চারদিকে ছড়ানো এই শিশিরের ছোট ছোট বিন্দুগুলোকে দেখে মনে হয় প্রকৃতির অশ্রুবিন্দু জমে আছে, যেন প্রকৃতির নিজের ভেতরেও আছে এক গোপন আনন্দ-বেদনার মিশ্রিত আবেশ।

সকালে ক্যাম্পাসে হাঁটতে আসা ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রতন আহমেদ বলেন, পাবিপ্রবিতে শীতের আগমন আমাদের হৃদয়ে যেন এক নতুন আবেগ জাগিয়ে তোলে। ভোরের কুয়াশায় ঢাকা মাঠ আর গাছের পাতায় জমে থাকা শিশিরবিন্দু দেখে মনে হয়, প্রকৃতিও আমাদের সঙ্গে শীতের আমেজে শামিল হয়েছে। ক্যাম্পাসে হেঁটে বেড়ানোর সময় শীতল বাতাসের স্পর্শ মনে করিয়ে দেয়, যেন পাবিপ্রবির প্রতিটি কোণ এই ঋতুর আগমনে আরো সজীব হয়ে উঠেছে।

Advertisement

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত আহমেদ বলেন, শীতের আগমনে পাবিপ্রবির এই পরিবেশ আমাদের মনে এক অদ্ভুত প্রশান্তি এনে দেয়। ক্যাম্পাসে সকালের কুয়াশা আর শিশিরে ভেজা সবুজ মাঠের ওপর সূর্যের আলো পড়তেই এক সোনালি আবেশ তৈরি করে, যেন প্রকৃতি নিজেই আমাদের জন্য এক জীবন্ত চিত্রকর্ম হয়ে উঠেছে।

একজন দর্শনার্থীর তার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, সকালবেলা পাবিপ্রবির ক্যাম্পাসে হাঁটতে হাঁটতে মনে হলো, যেন এক স্বর্গীয় নীরবতা চারদিকে ছড়িয়ে আছে। ঘন কুয়াশায় মোড়া রাস্তা, ভেজা মাটির সোঁদা গন্ধ, আর শিশিরে ভেজা পাতা। সবকিছু মিলে এক অনির্বচনীয় সৌন্দর্যের সৃষ্টি করেছে। 

পাশে থাকা আরেক দর্শনার্থী বলেন, শীতের হালকা বাতাস আর সূর্যের আলো যখন গাছের ফাঁক দিয়ে সবুজ ঘাসের ওপরে এসে পড়ে, মনে হয় প্রকৃতির এক অদ্ভুত মায়ার মধ্যে ডুবে যাচ্ছি। পাবিপ্রবির এই স্নিগ্ধ সকাল আমার হৃদয়ে এক গভীর শান্তির ছাপ রেখে গেল।

বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে শীতের এই আবহে শিক্ষার্থীরা যেন প্রকৃতির সঙ্গে আরো বেশি মিলেমিশে একাত্ম হয়ে যায়। শীতের শিশির ভেজা সকালে ক্যাম্পাসে প্রিয় বন্ধুদের সঙ্গে হাঁটা, চায়ের কাপে চুমুক দেওয়া আর গল্পের আসরে হারিয়ে যাওয়া শিক্ষার্থীদের জীবনে এক নতুন অর্থ এনে দেয়। এ যেন এক চিরন্তন অনুভূতির ঋতু, যেখানে প্রকৃতি ও মানুষের মন একই সঙ্গে মিলেমিশে এক অপূর্ব সম্প্রীতির সৃষ্টি করে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: পাবিপ্রবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!