ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে ৯ বছর শিক্ষকতার বাইরে বুয়েট অধ্যাপক

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:১০, ২৬ অক্টোবর ২০২৪
ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে ৯ বছর শিক্ষকতার বাইরে বুয়েট অধ্যাপক
ছবি: সংগৃহীত

৯ বছর ধরে সব ধরণের অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর আলমকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করা এক মন্তব্যের জেরে নানা হেনস্তার পর তাকে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে বলে সম্প্রতি অভিযোগ উঠেছে। এদিকে জাহাঙ্গীর আলমকে স্ব-পদে পুনর্বহালের দাবিতে ভিসি বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশলী পরিষদ নামে শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন।

শনিবার (২৬ অক্টোবর) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে স্মারকলিপি প্রদান করে একদল শিক্ষার্থীরা। এ সময় স্মারকলিপি পাঠ করেন বুয়েট শিক্ষার্থী মীম ওয়ালীউল্লাহ।

ওয়ালীউল্লাহ বলেন, বেশ কয়েকদিন আগে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের স্বনামধন্য শিক্ষক অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রদত্ত স্ট্যাটাস সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করে। যেখানে বিগত ১৬ বছরে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে তার ওপর হওয়া নানা অন্যায় ও বৈষম্যের কথা তুলে ধরেন তিনি। যার পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্তৃপক্ষ ও ভিক্টিমের সঙ্গে আমরা 'বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশল পরিষদ' যোগাযোগ করে এর সত্যতা পাই। এমতাবস্থায় বৈষম্যবিরোধী প্রকৌশল পরিষদ' এর পক্ষ থেকে আমরা বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমের ওপর ঘটে যাওয়া নির্যাতন, নিপীড়নমূলক আচরণ এবং বৈষম্যের ঘটনাগুলো নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। 

Advertisement

মীম ওয়ালীউল্লাহ আরো বলেন, বুয়েটের তৎকালীন প্রশাসনের মদদে মত প্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার রক্ষায় ব্যর্থতা, হয়রানিমূলক মামলা এবং সম্মানিত শিক্ষকের পেশাগত জীবনে ন্যায্য সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক মর্যাদার প্রতি আঘাত করা হয়েছিল। যার পরিক্রমায় বুয়েটে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেইসঙ্গে বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের মতো একজন নিরীহ ও মেধাবী ছাত্রকে খুন হতে হয়েছে।
স্মারকলিপিতে জাহাঙ্গীর আলমের ওপর হওয়া নিপীড়নমূলক প্রতিটি আচরণের তদন্ত ও বিচার এবং একইসঙ্গে তাকে তার সব মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে উক্ত ষড়যন্ত্রে জড়িতদের চিহ্নিতপূর্বক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

এছাড়া পাঁচদফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলো হলো-

১। সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ। ড. জাহাঙ্গীরের ওপর নির্যাতন, অপমান-অপদস্তকরন এবং বৈষম্যমূলক আচরণের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বুয়েটের অর্ডিন্যান্স ও ফৌজদারীবিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

২। অনতিবিলম্বে পুনঃ যোগদান নিশ্চিত করতে হবে।

৩। বিভিন্ন সময়ে বুয়েট প্রশাসনের অসহযোগিতা ও সাবেক প্রো-ভিসি আব্দুল জব্বারের প্রত্যক্ষ মদদে ক্রমাগত হুমকি-ধামকি এবং মামলা-গ্রেফতারের মতো অনৈতিক চাপের মাধ্যমে অব্যাহতি নিতে বাধ্য করা হয় ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমকে। তাই তার অব্যাহতিপত্র অনতিবিলম্বে বাতিলপূর্বক আগামী ৫ কর্মদিবস তথা ৩১ অক্টোবরের মধ্যে অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলমকে পুরকৌশল বিভাগে স্বপদে সসম্মানে যোগদানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। 

৪। মৌলিক সুযোগ-সুবিধার পুনঃপ্রতিষ্ঠা ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমকে বাধ্য হয়ে বুয়েটের টিচার্স কোয়ার্টার ছাড়তে হয়, অনৈতিকভাবে বিভাগের কনসালটেন্সি থেকে বিরত রাখা, অন্যায়ভাবে তার বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেওয়াসহ মিথ্যা মামলায় প্রচুর আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তাই বুয়েট কর্তৃপক্ষকে অনতিবিলম্বে পূর্বের বকেয়া সব বেতন-ভাতা পরিশোধপূর্বক আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি পূরণে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। 

৫। হয়রানিমূলক মামলা থেকে অব্যাহতি গ্রহণে সহযোগিতা, ফ্যাসিবাদের করা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা থেকে ড. মো. জাহাঙ্গীর আলমকে আদালতের অব্যাহতি গ্রহণে বুয়েট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় আইনগত সহায়তা দিতে হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: বুয়েট
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!