প্রাধ্যক্ষের আপত্তিতেও ৩ পাত্র প্রস্তুত, পাত্রী পেলে অনেকেই রাজি
বিয়ের কথা শুনলেই মাথায় হিসাবের টাকা ঘুরপাক খেতে থাকে। কত খরচ, কত আয়োজন। অনেকে আবার টাকার হিসেব মিলাতে না পেড়ে বিয়ে থেকে একটু দূরেই থাকে। বলে আগে প্রতিষ্ঠিত, পরে বিয়ে। কিন্তু এখন আর বিয়ের জন্য প্রয়োজন নেই কোনো টাকার, নেই কোনো খরচ। শুধু পাত্রপাত্রী হলেই বিনা খরচে করতে পারবে বিয়ে। সব খরচ জিয়া হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বহন করবে। এমনই এক উদ্যোগ নিয়েছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হলের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
২৮ সেপ্টেম্বর ‘বিজয় ২.০’ প্রীতিভোজের পর এ কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছে হলটির শিক্ষার্থীরা। যেকোনো শিক্ষার্থী চাইলেই এই বিয়েতে অংশ নিতে পারবেন। এই আসন্ন বিয়েকে ঘিরে চলছে পাত্র-পাত্রীর খোঁজ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়া হয়েছে। কেউ সেই স্ট্যাটাস, নিজেই দিচ্ছেন, কেউবা বন্ধুর হয়ে খুঁজতে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন।
বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আরইউ ইনসাইডারে এক পোস্টে বলা হয়, সেদিন প্রীতিভোজে জিয়া হলের প্রাক্তন-বর্তমান শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা অনুষ্ঠিত হবে। তারা এই উৎসবকে গণবিবাহের আয়োজনে রূপান্তরিত করতে চান। যারা জিয়া হলের হবু অর্ধাঙ্গিনী, তারা চাইলে, তাদের পার্টনারকে রাজি করিয়ে আয়োজক কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
এই পোস্টের পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহূর্তের মধ্যে এমন গণবিবাহের কর্মসূচি নেট দুনিয়াতে ভাইরাল হয়ে পড়ে।
আয়োজক রেজাউল করীম বলেন, ২৮ তারিখ আমাদের হলে এক প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়েছে। আমরা চাই এটা কে অসাধারণ করে রাখতে এর পাশাপাশি গণবিবাহের আয়োজন করতে। আমরা চাই ছেলে-মেয়ে যাতে অনৈতিক ও খারাপ পথে না গিয়ে ভালোর দিকে আসে । ভালোভাবে অর্থাৎ হালাল ভাবে তাদের জীবন শুরু করে। এরই মধ্যে আমাদের দুই-তিন ভাই রাজি হয়ে গেছে তারা বিয়ে করবে। পাত্রী রাজি থাকলে আরো অনেকেই রাজি।
প্রাধ্যক্ষের অনুমতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রাধ্যক্ষ স্যার বলেছে তোমরা নতুন কিছু করো। যেহেতু এটা একটা আলাদা বিষয় আশা করি প্রাধ্যক্ষ স্যার আমাদের পাশে থাকবেন।
সার্বিক বিষয়ে জিয়া হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, যারা এই গণবিবাহের আয়োজন করতে চাই, আজ তারা আমার সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলতে এসেছিল। আমি বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয় হলো লেখাপড়ার জায়গা। তোমরা আপাতত এই বিষয়টি স্কিপ করে দেও। আর যেহেতু হলের প্রাধ্যক্ষ হিসেবে আমার পক্ষ থেকেও এই বিষয়ে অনুমতি দিতে পারব না। এই বিষয়টি বাদ দিয়ে তোমরা তোমাদের বাকি কর্মসূচিগুলো পালন করো।