ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন 

আহতদের বিদেশে নেয়া হচ্ছে, মৃত্যুর তথ্য এসেছে ৬১৭ জনের

ঢাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:২৬, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪
আহতদের বিদেশে নেয়া হচ্ছে, মৃত্যুর তথ্য এসেছে ৬১৭ জনের
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে আহত হয়ে যারা ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছেন, তাদেরকে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় দেশের বাহিরে নেয়ার কার্যক্রম চলছে। এরই মধ্যে ৭ জনকে দেশের বাইরে নেয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া এখনো পর্যন্ত আন্দোলনে ৬১৭ জন মৃত্যুর তথ্য সংগ্রহ হয়েছে।

বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্যবিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটির সদস্য সচিব তারেকুল ইসলাম।

তারেকুল ইসলাম বলেন, ৫ আগস্টের বিজয়ের পর যারা আহত অবস্থায় রয়েছেন এবং আন্দোলনে যারা নিহত হয়েছেন। জনমনে যেই আশাটি ছিল এই মানুষগুলো আমাদের ডাকে সাড়া দিয়ে এসে শৃঙ্খলা বাহিনীর গুলি খেয়েছেন, আহত হয়েছেন এবং নিহত হয়েছেন। তাদের দায়িত্ব নেয়া আমাদের প্রয়োজন। কিন্তু বিগত যে সরকার ছিল তারা কিন্তু তাদেরকে আঘাত করেছে। কিন্তু যখন নতুন সরকার দায়িত্ব পেল তখন এর দায়টাও এসে বর্তায় সরকারের ওপর। আমরা চেয়েছি সরকার যেন তাদের যথাযথ মর্যাদা প্রদান করে এবং চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করে। সেজন্য আহত নিহতদের তালিকা তৈরি করতে স্বাস্থ্য বিষয়ক কেন্দ্রীয় উপকমিটি তৈরি করা হয়। 

Advertisement

তারেকুল বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারের সঙ্গে যৌথ সহযোগিতায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে যেটা কালেকশন করছি। এখন পর্যন্ত আমাদের আহত টোটাল কেস এসেছে ১৭ হাজার  ৯২৬টি। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে এসেছে ১৫ হাজার ৫৯৬টি। আটডডোর কেস ১০ হাজার ৭৩৯ এবং ইনডোর কেস ৬ হাজার ৭৪৮, মৃত অবস্থায় যাদেরকে হসপিটালে আনা হয়েছিল মেডিক্যালি ভেরিফাইড সংখ্যা ৪৩৯ এবং সর্বমোট মৃত ৬১৭। এছাড়া অঙ্গ-হানি, পা হারিয়েছেন এমন সংখ্যা ২০১ জন।

আহতদের দেশের বাহিরে নেওয়া প্রসঙ্গে বলেন, অনেকেই গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদেরকে দেশের বাহিরে নেওয়ার একটি প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত সাত জনকে আমরা সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডে নেওয়া চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এখন পর্যন্ত তথ্য সংগ্রহ প্রসঙ্গে তারেকুল বলেন, ডেটা সংগ্রহ করতে আমাদেরকে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে। শুরুতে আমরা হাসপাতালগুলোর সহযোগিতা একেবারেই পাচ্ছিলাম না। বিশেষ করে বেসরকারি হাসপাতালে ও ক্লিনিকগুলোতে। এখন সেই অসুবিধা কিছুটা কেটে গেছে। এছাড়া ছাত্রলীগ, হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স সব তথ্য গায়েব করে দিয়েছেন। তারপরেও আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এই গণঅভ্যুত্থানে আহত-নিহতদের সঠিক ডেটাটি সংগ্রহ করার। আমরা মোবাইল নাম্বার দিয়েছি, যেকেউ আমাদের তথ্য দিতে পারবেন। পরে সেগুলো আমরা যাচাই-বাছাই করব।

নিহতদের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে বলেন, ৭১ এর যারা নিহত হয়েছেন৷ তাদেরকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছেন। এবারের হাসিনা সরকারের পতনে অনেক নিরীহ মানুষের প্রাণ গেল। স্বাস্থ্য উপকমিটি থেকে দাবি জানানো হবে, যারা কি-না নিহত হয়েছেন, তাদেরকে তো স্বীকৃতি দেওয়া হবেই এবং তাদের মেমোরিয়াল তৈরি করার উদ্যোগ নেয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
ট্যাগ: ঢাবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!