মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হয়ে প্রায় তিনটা পর্যন্ত চলে এই সংঘর্ষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সেনাবাহিনী।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সোমবার রাতে ববির এক শিক্ষার্থীর পারিবারিক বিরোধপূর্ণ বাড়ি দখল করতে গিয়ে দুই নারীকে হেনস্থা করে বিএম কলেজের সমন্বয়ক মোস্তাফিজুর রহমান রাফি। পরে ববি শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় রাফিকে মারধরের ঘটনা ঘটে। এরপর মঙ্গলবার রাতে চাঁদাবাজির অভিযোগে বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা তাদের দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করে।
.png)
ববি শিক্ষার্থীরা আরও জানান, এ ঘটনার পর ক্যাম্পাস থেকে তিনটি বাসে করে তারা নগরীর বটতলার দিকে রওনা দেন। একপর্যায়ে বটতলা এলাকায় পৌঁছানোর আগেই বাসে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে ২৫ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। অপর দুটি বাস ফিরে আসার সময় তাতেও হামলা চালায় বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা।
এদিকে ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষার্থী আমান জানান, মধ্যরাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি বাস, একটি ছোট ট্রাকভর্তি শিক্ষার্থীরা এসে আমাদের ক্যাম্পাসে হামলা চালায়। যাকে যেখানে যেভাবে পেয়েছে পিটিয়ে আহত করেছে। অনেকের মাথা ফেটেছে, অনেকে মারাত্মক জখম হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তারা কলেজের তিনটি গাড়িও ভাঙচুর করেছে।
কোতয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সোমবার রাতে বিএম কলেজ সমন্বয়ক মোস্তাফিজুর রহমান রাফিকে মারধর করে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পরে মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে বটতলা এলাকায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে মারধর করে বিএম কলেজ শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে দুই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে।
প্রসঙ্গত, বিরোধপূর্ণ জমি দখল নিয়ে সৃষ্ট ঘটনায় দুই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা মঙ্গলবার বিকেলে নিজ নিজ ক্যাম্পাসের সামনে মানববন্ধন করেছে। এ কর্মসূচির পর মঙ্গলবার রাতে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।