রোববার (১৮ আগস্ট) প্রায় এক মাসের অচলাবস্থা কাটিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোয় পুরোদমে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে ঢাবিতে এখন পর্যন্ত সেই অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। যদিও উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) বলছেন, নতুন উপাচার্য এলেই সব সংকট কেটে যাবে।
সোমবার (১৯ আগস্ট) সরেজমিনে দেখা যায়, যথারীতিতে চলছে রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের (প্রশাসনিক ভবন) কার্যক্রম। নিয়মানুযায়ী খুলেছে কেন্দ্রীয় এবং বিজ্ঞান গ্রন্থাগার। নেই শ্রেণি কার্যক্রম, বন্ধ ক্লাস-পরীক্ষা। যদি কোনো কোনো শিক্ষক তাদের বিভিন্ন প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।
.png)
হলগুলোতেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও রয়েছে বেশ। নতুন নিয়মানুযায়ী হলগুলোতে অবৈধ ও মেয়াদোত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের অবস্থা করার সুযোগ থাকছে না। এ নিয়ে হলগুলোতে সিট বরাদ্দ পেতে আবেদন চলছে। হলগুলোর একাধিক শিক্ষার্থী এবং হল প্রশাসনের সঙ্গে কথা হলে তারা ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, বৈধ সিট পেতে আবেদন চলমান রয়েছে। অনেক হলে আবেদন শেষে, সিট বরাদ্দও দেওয়া হয়েছে। বাকি হলগুলোতে এখনো বৈধ সিট বণ্টন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক দফতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রুটিনমাফিক অফিসে যাওয়া-আসা করেন না, বলে অভিযোগ রয়েছে। কেউবা দুপুরে লাঞ্চের বিরতির পরে অফিসে ফেরার খোঁজ নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের এক কর্মকর্তারা জানান, উপাচার্য না থাকা অনেকেই নিয়মিত আসছেন না। এজন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তাই হয়তো রেজিস্ট্রার বিল্ডিংয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস সময়ের আগে কর্মস্থল ত্যাগ করছেন।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সামাদকে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক সীতেশ চন্দ্র বাছার ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক। তিনি এলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বসবেন, সব বিষয়ে কথা বলবেন। আশা করি, শিগগিরই বিশ্ববিদ্যালয়ের সব সমস্যা নিরসন হয়ে পূর্বের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফিরবে বিশ্ববিদ্যালয়। এছাড়া বর্তমানে বিভিন্ন অফিসের কাজ বিঘ্নিত হচ্ছে। বর্তমান সরকার অবশ্যই বিষয়টিকে বিবেচনায় নিচ্ছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।