গেল উদ্ভট পরিস্থিতিতে গত ১৭ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধে যায় ঢাবি। এর পরপরই পুরোপুরিভাবে হল ছাড়তে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। যদিও আন্তর্জাতিক হল স্যার ফিলিপ হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হল এর আওতার বাহিরে ছিল। এমন পরিস্থিতিতে একজন বিদেশি শিক্ষক এবং ৩১জন বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীরা হল ছাড়েন। যদিও সবমিলিয়ে কতজন শিক্ষার্থী-শিক্ষক বর্তমানে অবস্থান করছেন তা জানা যায়নি।
হলটির প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, একজন শিক্ষকসহ ৩২ জন চলে গেছে। এর মধ্যে একজন কোরিয়ান শিক্ষক; বাকিরা নেপালি, ভুটানিজ, ফিলিস্তিনি শ্রীলঙ্কান, মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থী। এর মধ্যে তিনজন ফিলিস্তিনকে তাদেরকে ফিলিস্তিনের অ্যাম্বাসি যোগাযোগ করে ফিরিয়ে নিয়েছেন। এছাড়া আধুনিক ভাষা ইন্সটিটিউটের কর্মরত যে কোরিয়ান শিক্ষক ছিলেন, তিনি তো কোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশন এজেন্সির (কোইকা) মাধ্যমে এসেছিলেন। তাকে তারা নিয়ে গেছেন। এছাড়া বাকিদের সেই দেশের অ্যাম্বাসি যোগাযোগ করে তাদেরকে নিয়ে গেছেন।
.png)
তিনি আরো বলেন, বর্তমানে যারা হলে আছেন, তাদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেছি। এছাড়া তাদেরকে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে, তারা যেন প্রয়োজন ছাড়া বাহিরে বের না হয় এবং বহিরাগত কিংবা বন্ধু-বান্ধবদের কাউকে যেন হলে না আনে। যদি একান্তই প্রয়োজন হয়, তারা যেন অবশ্যই হল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবগত করেন। তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং ইন্টারন্যাশনাল ডেস্কের দায়িত্বে রয়েছে সবাই এক ধরনের কোঅর্ডিনেশনের মধ্যে হল পরিচালনা করছি, তাই কোনো অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়নি।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদের জন্য ১৪টি এবং ছাত্রীদের জন্য ৫টি আবাসিক হল রয়েছে। এছাড়া চারুকলা অনুষদ, ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট ও লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইন্সটিটিউটের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য রয়েছে আলাদা হোস্টেল এবং বিদেশি ছাত্রদের জন্য রয়েছে আন্তর্জাতিক হল।
স্যার ফিলিপ হার্টগ ইন্টারন্যাশনাল হলটিতে বিভিন্ন বিভাগে ও ইনস্টিটিউটে অধ্যয়নরত এবং অধিভুক্ত কলেজ ও ইন্সটিটিউটের বিদেশি শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অ্যালটমেন্ট পান। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সংখ্যক শিক্ষক ও কর্মকর্তা এবং ভিজিটিং গবেষক ও স্কলারগণ এখানে বসবাসের সুবিধা পান।